প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাড়ছে অর্থনৈতিক ঝুঁকি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রচলিত ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়াচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি। কেননা, দুর্যোগের ফলে প্রতি বছর ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। যেটি মোট দেশীয় উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির প্রায় ১ শতাংশ। শুধু তাই নয়, কমিয়ে দিচ্ছে উৎপাদন। এ ছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন ব্যয়। পাশাপাশি বাড়ছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সরকারি ঋণও বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম বাধা হিসেবে দেখছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
অর্থ বিভাগের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় এই প্রতিবেদনটিও উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের নবম সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশ, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা অধিক হারে সংঘটিত হয়। এই দুর্যোগগুলো প্রতি বছর ৬ দশমিক ৩ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। বাংলাদেশের নিচু ভূপ্রকৃতি, উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং কৃষির ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা, জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতি বছর জিডিপির ১.৩২ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে। আইএমএফের ক্লাইমেট ড্যাশবোর্ডের তথ্যমতে, গত চার দশকে বাংলাদেশ ১৩টি বড় ধরনের বন্যা এবং ৮টি বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে। ঐতিহাসিক উপাত্তের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, বন্যার মতো দুর্যোগগুলো অর্থনীতির জন্য একটি পদ্ধতিগত চরম ঝুঁকির প্রতিফলন। যেমন ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার ফলে জিডিপির ৫ শতাংশেরও বেশি ক্ষতি হয়েছিল। বন্যা-সম্পর্কিত বিপর্যয় থেকে দীর্ঘমেয়াদি গড় কাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ বার্ষিক জিডিপির ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উৎপাদন ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিও ওপর প্রভাবের মধ্যে ফসলের ক্ষতি, গবাদি পশুর ক্ষতি, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটার মাধ্যমে অভিঘাতের তাৎক্ষণিক প্রভাবে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হয়ে যায়। প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ মেয়াদে কমে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫ ও ৭ দশমিক শূন্য শতাংশের ভিত্তি প্রক্ষেপণের বিপরীতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এ ছাড়া ২০২৮-২৯ অর্থবছরেও মধ্যমেয়াদে সামগ্রিক পুঞ্জীভূত উৎপাদন ক্ষতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকবে।




