ভ্যাটমুক্ত ব্যবসা চান ক্ষুদ্র দোকানিরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। গতকাল শনিবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সমিতির নেতারা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশের বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী ভ্যাট আদায়কারী কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হবেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) ব্যবসা খাতে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে।
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মুদি দোকান, রেস্তোরাঁসহ ১৬ ধরনের ব্যবসাকে মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে জুলাই মাসের ১ তারিখ তা কার্যকর হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন। এ সময় সংগঠনের মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যেসব ব্যবসা খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো হলো— মুদিদোকান, তৈরি পোশাক বা কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, প্রসাধনসামগ্রীর দোকান, প্লাস্টিক ও সিরামিকের গৃহস্থালি পণ্য, জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের দোকান, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন, এসি, ফ্রিজ, ওভেন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকান, পেইন্ট ও হার্ডওয়্যার, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলসের দোকান, ঢেউটিনের দোকান, রড ও সিমেন্ট, আসবাব, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও রেস্তোরাঁ।
সংগঠনটি বলছে, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কীভাবে ভোক্তার কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করবেন, তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া ১৯৯১ সালে যখন ভ্যাট প্রবর্তন করা হয়, তখন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, হাটবাজার ও বন্দরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হবে না। বর্তমান সিদ্ধান্ত সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় পৌনে আট লাখ। গত অর্থবছরে ভ্যাট বাবদ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) আওতাভুক্ত ১০৯টি প্রতিষ্ঠানই মোট ভ্যাটের প্রায় ৬০ শতাংশ দিয়েছে। এলটিইউভুক্তসহ বড় পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠান দিয়েছে মোট আদায়কৃত ভ্যাটের ৯৮ শতাংশ। অর্থাৎ এই বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ অনেক বেশি।
হেলাল উদ্দিন বলেছেন, দেশে প্রকৃত ভ্যাটদাতার সংখ্যা বাড়াতে খুচরা পর্যায়ে হয়রানি বন্ধ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি) চালু করা হোক। একই সঙ্গে এনবিআরকে খুচরা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বড় খাতগুলো থেকে এবং উৎস পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের দাবি জানিয়েছেন হেলাল উদ্দিন।
অন্যদিকে, আয়কর আইনের ২১৬ ধারা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ২১৬ ধারাকে ‘অসম্মানজনক ও নিপীড়নমূলক’ আখ্যা দেন তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই ধারার অধীনে কর কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা সাধারণ বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সামান্য ভুলের জন্যও বড় ধরনের আইনি মামলার ভয় দেখানোর সুযোগ পান।




