অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচ ড্র, বিশ্বকাপ শেষ ইরানের

অলৌকিক সমীকরণের আশায় চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিল পুরো ইরান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্যবিধাতা সহায় হলো না। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যকার গ্রুপ ‘জে’-র ম্যাচের শেষ সেকেন্ডের নাটকীয় এক গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল ইরানের। মাঠের লড়াইয়ে ১-১ গোলে মিশরের সাথে ড্র করে শেষ বত্রিশে ওঠার গৌরব থেকে বঞ্চিত হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি।
মহানাটকীয় ম্যাচ ড্র করে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া দুই দলই জায়গা করে নিয়েছে শেষ ৩২-এ। তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-র তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে শেষ করা ইরান টাইব্রেকারের সমীকরণে প্রায় পরের রাউন্ডে চলেই গিয়েছিল। রবিবার ভোরে যখন আলজেরিয়া ম্যাচের যোগ করা সময়ে গোল করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তখন ইরানের নকআউট নিশ্চিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু ফুটবল বিধাতা যেন সব নাটকীয়তা জমিয়ে রেখেছিলেন ম্যাচের শেষ পাসের জন্য।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার
ঠিক আগ মুহূর্তে গোল শোধ করে ম্যাচটি ৩-৩ ব্যবধানে ড্র করে অস্ট্রিয়া। আর এতেই কপাল
পুড়ে ইরানের; দুই দলই ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে চলে যায় আর টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে
যায় ইরান। হৃদয় ভাঙে সমর্থকদের। তবে শুধু মাঠের ফুটবল নয়, আমেরিকার কড়া নিষেধাজ্ঞা,
রাজনৈতিক উত্তেজনা আর ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই আসরটি ইরানের ফুটবল ইতিহাসে
স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
চলতি বছরের শুরুতে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই বিশ্বকাপ খেলছিল ইরান দল। এমনকি শনিবারও বাহরাইনে আমেরিকার নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা এবং পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকার পাল্টা বিমান হামলার খবর ম্যাচ চলাকালীনই উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেয়।
আমেরিকার মাটিতে খেলতে এসে প্রতি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে ইরান দলকে। ভিসা জটিলতায় দলের সাপোর্টিং স্টাফদের বড় অংশ আসতে পারেনি। যাতায়াতের ওপর ছিল কঠোর বিধিনিষেধ। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে হলেও ইরানকে তাদের বেস ক্যাম্প করতে হয়েছিল মেক্সিকোর টিজুয়ানায়। ম্যাচের মাত্র একদিন আগে তাদের আমেরিকার ভেন্যুতে আসার অনুমতি দেওয়া হতো এবং ম্যাচ শেষ হতেই দ্রুত মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হতো। শেষ ম্যাচের আগে অবশ্য সিয়াটলে দুই দিন আগে আসার অনুমতি দিয়েছিল মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই সব বিধিনিষেধ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইরানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠের বাইরে গ্যালারিতেও ইরানি আমেরিকানদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং জাতীয় সংগীতের সময় দুয়ো ও করতালির মিশ্র এক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ফুটবলারদের। বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের উদাহরণ টেনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সাথে অত্যন্ত বাজে আচরণ করা হয়েছে। আমি আশা করি পুরো বিশ্ব এই অন্যায়গুলো দেখবে। চরম প্রতিকূলতার মাঝেও এই তরুণ ইরানি ফুটবলাররা মাঠে যা করে দেখিয়েছে, তা ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। কারণ, আয়োজক দেশ আমাদের সাথে সবচেয়ে খারাপ ব্যবহারটিই করেছে।’






