নিকলী
‘বৈদ্যুতিক শক মেশিন’ দিয়ে মাছ শিকার, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

ছবি: আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে নদী ও হাওরের বিভিন্নস্থানে ব্যাটারিচালিত ‘বৈদ্যুতিক শক মেশিন’ দিয়ে মাছ শিকার করছে স্থানীয় কিছু লোক। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জলজ জীববৈচিত্র্য। এভাবে মাছ শিকারের ফলে দিন দিন নদী-হাওরে মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ জেলেরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, রোদারপুড্ডা এলাকার রাজেল ও খাইরুলকে বিদুৎতের শক দিয়ে মাছ শিকার করতেছে। শুধু রোদারপুড্ডাতে সীমাবদ্ধ নয়, সিংপুর, ছাতিরচর, দামপাড়া, আলিয়াপাড়া, কারপাশাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নদী ও হাওরের নানান স্থানে অবাধে মাছ শিকার করছেন।
নিষিদ্ধ এসব পদ্ধতিতে মাছ শিকারের কারণে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা, ডিমসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় এক জেলে নুরু মিয়া (৩৫) বলেন, আগে নদীতে জাল ফেললেই প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও মাছের দেখা মেলে না। আর যা পাওয়া যায়, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
একদিকে কারেন্ট জাল ও চায়না চাই দিয়ে ব্যাপকভাবে মাছ ধরা হচ্ছে, অন্যদিকে এখন আবার বৈদ্যুতিক মেশিন ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আরেক জেলে শুভাষ দাস (৪৫) বলেন, নদীতে আগের তুলনায় মাছ পাওয়া যায় না। আমরা সারাদিন জাল নিয়ে বসে থাকলেও ৪০০-৫০০ টাকার মাছও পাচ্ছি না। মেশিন দিয়ে ছোট-বড় সব মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে। ফলে দিন দিন মাছের অভাব দেখা দিচ্ছে। অনেক সময় সারাদিনে ২০০-৩০০ টাকার মাছও পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, অবৈধ ও নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করলে নিকলীর নদী ও হাওরের মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে একদিকে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে, অন্যদিকে মাছের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে পরিবারও চরম সংকটে পড়বে।
নদী ও হাওরপাড়ের স্থানীয়রা জানান, কারেন্ট জাল, রিং জাল ও চায়না চাই ব্যবহারের কারণে আগে থেকেই মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে নদী-হাওরে কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। এর মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে বৈদ্যুতিক ‘শক মেশিন’।
এসব মেশিন ব্যবহার করে মাছ শিকারের ফলে জলজ প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় মাছের জন্য হাহাকার দেখা দেবে বলে মনে করছেন তারা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাটারির সাহায্যে বিদ্যুৎ শক দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি নিকলীতে এই প্রথম শুনলাম। এ পদ্ধতিতে মাছ শিকার করলে মাছ, রেণু, ডিম, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়। এটি আইনত দণ্ডনীয়।
বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে এ ধরনের অবৈধ মাছ শিকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




