মাদক মামলার আসামি ছাড়াতে গিয়ে আটক ৫ নেতা

সংগৃহীত ছবি
কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় মাদক মামলার এক আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতাকর্মীকে নেওয়া হয়েছে পুলিশি হেফাজতে। শনিবার রাতে ৮ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক মাদক কারবারির পক্ষে সুপারিশ করতে গিয়ে আটক হন তারা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর থানার আমলা ক্যাম্পের এসআই রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে সদরপুর ইউনিয়নের টেকনিক্যাল কলেজ সড়ক এলাকায় চালানো হয় অভিযান। এ সময় নওদা আজমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে রবিউলকে ৮ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় এনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হয় মামলা।
রবিউল গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে মিরপুর থানায় যান একদল নেতা। তাদের মধ্যে ছিলেন সদরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও বিএনপি নেতা এনামুল হক এবং স্থানীয় জামায়াত নেতা সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
পুলিশের ভাষ্য, আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি করেন তারা। নিষেধ করার পরও তারা মাদক মামলার আসামিকে মুক্ত করার দাবিতে থাকেন অনড়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওই পাঁচজনকে নেওয়া হয় পুলিশি হেফাজতে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা পুলিশ।
আরও উল্লেখ করেছেন তিনি, সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। হাতেনাতে গ্রেপ্তার এক আসামিকে ছাড়িয়ে নিতে বারবার নিষেধ করার পরও অনৈতিকভাবে তদবির করছিলেন তারা। তার ভাষ্য, এতে ধারণা করা হচ্ছে তারা হয় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, নয়তো মাদক ব্যবসায়ীদের দিচ্ছেন উৎসাহ। এ কারণেই তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় অনেকেই।




