ভুল চিকিৎসার অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে, তদন্তের নির্দেশ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এক রোগীর লিখিত অভিযোগের পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মো. খালিদ সাইফুল্লাহ।
গতকাল বৃহস্পতিবার চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বান্দরবানের লামা উপজেলার গুলিস্তান বাজার এলাকার মো. শাহজান (২৯)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসক মো. খালিদের চেম্বার চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল সড়কের সোনালী ফার্মেসিতে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি কোমরব্যথা ও গ্যাসজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য খালিদের চেম্বারে যান শাহজান। সেখানে এক্স-রে করার পর বিভিন্ন সময়ে চার দফায় তাকে মোট আটটি ইনজেকশন দেওয়া হয়; কিন্তু চিকিৎসার পর অবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং ইনজেকশন দেওয়া স্থানে সংক্রমণ দেখা দেয়। এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ জুলাই চকরিয়া জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছে যান শাহজান। তিনি তাকে জানালেন, তার সমস্যার জন্য ওই ধরনের চিকিৎসা উপযুক্ত ছিল না। তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চেম্বার থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক মো. খালিদ। তার ভাষ্য, রোগীর কোমরের ব্যথা উপশমে ডেপো-মেড্রল ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। পরে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু রোগী নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় জটিলতা বেড়েছে। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা ভুল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ জানালেন, তিনি চীন থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং যুক্তরাজ্য থেকে এমআরসিপি পার্ট-১ সম্পন্ন করেছেন।
ফার্মেসিতে আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে একজন চিকিৎসক এসব পরীক্ষা করতে পারেন।’
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক সার্জন ডা. সুজন ত্রিপুরা বলেছেন, ‘ডেপো-মেড্রল (মিথাইলপ্রেডনিসোলন অ্যাসিটেট) একটি কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন। যা নির্দিষ্ট কিছু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। তবে কোমরের নির্দিষ্ট স্থানে এ ধরনের ইনজেকশন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ইমেজিং গাইডেন্স ও চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করা জরুরি।
চকরিয়ার ইউএনও শাহীন বললেন, ‘লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





