শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীকে মারধর: ৪ সেমিস্টারে বহিষ্কার ২ ছাত্রদল নেতা

শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদল নেতা হাসিবুর রহমান (বায়ে) ও তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে শাস্তির মুখে পড়েছেন দুই ছাত্রদল নেতা। ঘটনার তদন্ত শেষে তাদের চার সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার এবং দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে শাবিপ্রবি প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে অনলাইনে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক জহির বিন আলম।
মারধরের ঘটনায় এর আগে দুজন বহিষ্কার হয়েছেন সংগঠন থেকে। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র তারেক রহমান। তারা শাহপরান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
অধ্যাপক জহির বিন আলম জানান, তদন্ত ও শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাদের বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই বছর পর তারা শিক্ষার্থী হিসেবে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পাবেন না।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
মারধরের ঘটনাটি গত শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে। অভিযোগকারী খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
তার ভাষ্য, শুক্রবার হলের ক্যান্টিনে পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ জানিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রভোস্টকে উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা তারেক তাকে ডেকে জানান, ওই পোস্টে প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। প্রভোস্টের কাছে তাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে।
ওই রাতে আবারও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হলে খাইরুল নতুন করে অভিযোগ করেন। শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গেলে হাসিবুর ও তারেক এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায়ে হাসিবুর তার বুকে লাথি মারেন এবং তারেক মাথার পেছন ও মুখে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। আশপাশের শিক্ষার্থীরা গিয়ে তাকে হাসপাতালে নেয়।
ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।






