কুমিল্লায় প্রসূতির মৃত্যু, হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুর
- সাড়ে ১২ লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের আল-বারাকা হসপিটালে পপি আক্তার (২৪) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটিতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে স্বজন ও এলাকাবাসী। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে ওই প্রসূতির। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনাটি তদন্তে শুক্রবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের আল-বারাকা হসপিটালে সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকুই গ্রামের মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী পপি আক্তারের অস্ত্রোপচার (সিজার) করানো হয়। ৭ সেপ্টেম্বর তাকে ছাড় পত্র দেওয়া হয়। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও ওই হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কেটে দেন এবং কোনো সমস্যা নেই বলে তাকে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেন।
পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে পপির অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা খালি না থাকায় তাকে কুমিল্লা শহরের বেসরকারি মুন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।
পরে শুক্রবার কুমিল্লা শহরের ওই হাসপাতাল থেকে পপির মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ব্রাহ্মণপাড়ার আল-বারাকা হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পপির স্বামী মোহন মিয়া জানান, আল-বারাকা হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে তার স্ত্রী পপি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসায় তার রক্তনালি কেটে ফেলা হয়, যার ফলে তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তিনি ভুল চিকিৎসার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আল-বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সাহেবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘শুক্রবার এ ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। মাতৃহীন দুটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় আল-বারাকা হাসপাতালের মালিক আবদুল্লাহ আল কাফির বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া দেননি তিনি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আগামীর সময়কে বলেন, ‘রোগী মৃত্যুর ঘটনায় আল-বারাকা হাসপাতালে হামলা-ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই মামলা রুজু করা হবে।’
প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা সাড়ে ১২ লাখ টাকায় মীমাংসার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




