শ্রমিক অসন্তোষে গাজীপুরের পর্যটন খাতে মন্দা

গাজীপুর সাফারী পার্ক
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ভাঙচুর, অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রভাব পড়েছে জেলার পর্যটন খাতে। টানা পাঁচ দিনের অস্থিরতায় রিসোর্টের আগাম বুকিং বাতিল করছেন অনেক পর্যটক। সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন, নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের কারণে কমেছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যাও। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থী কম থাকায় অলস সময় পার করছেন রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
গাজীপুরের বিভিন্ন রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের অন্যতম রিসোর্ট ড্রিম স্কয়ার। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা নুর আলম সিদ্দিকী বাবু জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তাদের রিসোর্টটির কার্যক্রমে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রায় ৯৮ শতাংশ অনুষ্ঠান ও আয়োজন বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে এইচএসবিসি ও ইউনিসেফের মতো প্রতিষ্ঠানের আয়োজনও ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে।
দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমেছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পটেও। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা রিসোর্টে আসতে পারেননি। যারা আগাম বুকিং করেছিলেন, তাদের অনেকেই আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং স্থগিত করেছেন। স্থানীয় দর্শনার্থীর সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক কম।
দর্শনার্থী কমেছে জেলার অন্যতম বড় বিনোদনকেন্দ্র গাজীপুর সাফারি পার্কেও। পার্কটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানিয়েছেন, শ্রমিক আন্দোলনের সময় দর্শনার্থীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছিল। কোনো কোনো সময়ে তা প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছিল। গত দুই দিনে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও দর্শনার্থীর সংখ্যা এখনো কম।
তারেক রহমান জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, সাভার ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা সাফারি পার্কে আসেন। তাদের বেশির ভাগই ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ব্যবহার করেন। সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের কারণে এসব সড়কে চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় অনেকেই পার্কে আসেননি। এখন দর্শনার্থীরা পার্ক খোলা আছে কি না এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা ফোন করে জেনে নিচ্ছেন। এরপর ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানেও দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমেছে। উদ্যানের রেঞ্জার আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতার কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম। সাধারণত শুক্র ও শনিবার উদ্যানে দর্শনার্থীদের চাপ বেশি থাকে। তবে এবার সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন, নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই আসেননি।
আরিফুল ইসলাম বললেন, শিল্পাঞ্চলের অস্থিরতা গাজীপুরের পর্যটন খাতে বড় প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ থাকায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আসার পরিবেশ ছিল না।
পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। এ সময়ে পর্যটকেরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রিসোর্ট বা বিনোদনকেন্দ্রে আসতে চাইবেন না। এতে এ খাতের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।




