মেঘনার পাড়ে দুলছে সাদা কাশফুল

ছবি: আগামীর সময়
এক পাশে মেঘনা নদীর শান্ত জলরাশি, অন্য পাশে সারি সারি কাশফুল। সবুজের বুক চিরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা কাশফুলগুলো হাওয়ার দোলায় যেন শুভ্র পালক মেলে নেচে উঠছে। প্রকৃতির এমন অপরূপ সাজে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
শরৎ এলেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের চর ভবনাথপুর ও ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড় জুড়ে কাশফুলের সমারোহ দেখা যায়। প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফুটে থাকা কাশফুল দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। দুই থেকে তিন মাস ধরে থাকা এই কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্য যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য তৈরি করেছে সাদা-ধূসর এক নৈসর্গিক রাজ্য।
আজ সোমবার বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, লম্বা ও চিকন সবুজ পাতার বুক থেকে বেরিয়ে এসেছে কাশফুলের সাদা থোকা। কোথাও থোকা থোকা, কোথাও আবার ঘন গুচ্ছ। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, বিস্তীর্ণ চর জুড়ে কেউ যেন সাদা চাদর বিছিয়ে রেখেছে।
দক্ষিণ আকাশে তখন মেঘের আনাগোনা। মাঝেমধ্যে মেঘের গর্জন। মেঘনা নদীর বুক ছুঁয়ে আসা শীতল বাতাসে দুলছে কাশফুল। বাতাসের সঙ্গে দোল খেয়ে কাশবন জুড়ে তৈরি হচ্ছে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
কাশবনে ঘুরতে আসা মানুষের মধ্যে কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন। আবার কেউ কাশফুল হাতে নিয়ে স্মৃতির ফ্রেমবন্দি হচ্ছেন। শিশু-কিশোরদের কেউ কেউ কাশবনের ফাঁকে খেলায় মেতে উঠেছে। সব মিলিয়ে বিকাল হলেই মুখর হয়ে উঠছে কাশবন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাদ্র মাসের শেষ দিকে এ এলাকায় কাশফুল ফুটতে শুরু করে। শরতের পুরো সময় জুড়ে প্রকৃতির এই শুভ্র সাজ দেখা যায়। কার্তিক মাস পর্যন্ত কাশফুলের সৌন্দর্য থাকে। বিকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।
যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসছেন মেঘনার পাড়ের এই কাশবনে। বিশেষ করে শেষ বিকেলে সূর্যের আলো কাশফুলের ওপর পড়লে সৌন্দর্য আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই বিকালেই দর্শনার্থীদের ভিড় বেশি দেখা যায়।
স্থানীয় এক দর্শনার্থী হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘একসঙ্গে এত কাশফুল দেখতে খুবই ভালো লাগে। নদীর পাড়ের বাতাস আর কাশফুলের দৃশ্য মনকে প্রশান্ত করে।’
আরেক দর্শনার্থী হাসান মাহমুদ রিপন বললেন, ‘মূলত ছবি তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে সময়টা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।’
স্থানীয়রা জানালেন, প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে কাশফুল দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। বিকালের দিকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কেউ ছবি তোলেন, কেউ নদীর পাড়ে বসে সময় কাটান।
প্রকৃতির এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নামে। দূর আকাশে চাঁদের আভা ফুটে ওঠে। কখনো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যায় চাঁদ। সন্ধ্যার মৃদু আঁধারে মেঘনার জলে তখন চাঁদের আলো ঝিলমিল করে। নদীর ঢেউ, শীতল বাতাস আর শুভ্র কাশফুল মিলে চর ভবনাথপুরকে যেন পরিণত করে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাজ্যে।
শরতের কাশফুলের এই মায়াবী সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। মেঘনার পাড়ে সাদা কাশফুলের এই মেলা যেন সোনারগাঁয়ের প্রকৃতির এক অনন্য আয়োজন।




