চুরির অভিযোগে প্রথমে শিশুকে, পরে তার মাকে বাঁশ দিয়ে পেটালেন বিএনপি নেতা

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নু
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ তুলে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশ দিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে। আহত মা ও ছেলেকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের পর ভয় ও আতঙ্কে তারা কয়েক দিন বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মঙ্গলবার সকালে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহত শিশুটির বয়স ১২ বছর। তার বাবা মৃত। শিশুটির মায়ের অভিযোগ, মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশ দিয়ে প্রথমে তার ছেলে জিসানকে এবং পরে তাকেও মারধর করা হয়।
তিনি বললেন, তার স্বামী মারা যাওয়ার আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজপত্র ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চাইলে চুন্নু ও তার ভাইয়ের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বৃষ্টির কারণে গ্রামের মূল সড়ক কর্দমাক্ত থাকায় তিনি ও তার ছেলে চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াত করতেন। গত শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই মা-ছেলে দুজনকে নিজেদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগ তুলে তাদের মারধর করা হয়।
তবে হাফিজুর রহমান চুন্নু অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘ওই শিশুটি চুরির সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় চুরি করে বেড়ায়।’ তার ভাষ্য, ওই দিন চুরির ঘটনার পর তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘দু-একটা পিডান পুডান দিয়ে ছেড়ে দিতে’ বলা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
শিশুটির মাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেছেন, ‘ওরা এলাকার জাত চোর, সবাই জানে। আর আমরাও মানবিক। ওর মা আমার ভাগ্নি হয় সম্পর্কে। ওর মাকে বলেছি পোলা ঢাকা পাঠাইয়া দিতে।’ এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আহতদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার সকালে শিশুটি ও তার মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কয়েক দিন আগের আঘাত হওয়ায় শরীরের কিছু স্থানে কালো দাগ দেখা গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলামের ভাষ্য, ঘটনাটি সম্পর্কে তাকে কেউ অবহিত করেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাউকে মারধরের পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বললেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত নয়।’



