এ সেতু কেমন সেতু
পথহারা গতিহারা
- নেই সংযোগ সড়ক, ভোগান্তিতে টাঙ্গাইলের ২০ গ্রামের মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
তিন বছর আগে শেষ হয়েছে সেতু নির্মাণ। ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা; কিন্তু আজও সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। ফলে সেতুটি দাঁড়িয়ে আছে শুধু কংক্রিটের একটি কাঠামো হয়ে। টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়া-দপ্তিয়র সড়কের ঘুনিপাড়া এলাকায় নির্মিত এ সেতু ব্যবহার করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, রোগী বহন— সব ক্ষেত্রেই তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প পথের ওপর। অপূর্ণ অবকাঠামোর এই চিত্র এখন স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। পরিকল্পনার অসম্পূর্ণতা এবং কাজের ধীরগতির কারণে জনভোগান্তি বাড়ছে— বলছেন জনপ্রতিনিধিরাও। সলিমাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মনোয়ারা বেগম পনুর ভাষ্য, ‘তিন বছর ধরে সেতুটি নীরব সাক্ষীর মতো দাঁড়িয়ে আছে। দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় নিরাপদে ওঠানামার কোনো সুযোগ নেই। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি কোনো কাজে আসছে না মানুষের।’
প্রকল্পের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশে গাইডওয়াল ও সংযোগ সড়কের কাজ আর এগোয়নি। রংপুরের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাইরুল কবির রানার পক্ষে উপঠিকাদার হিসেবে রিপন মাঠপর্যায়ে কাজ পরিচালনা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংযোগ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রেখেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। প্রকল্পের অর্থ উত্তোলনের পর আর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে রিপন কোনো তথ্য না দিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাগরপুর উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুব বলেছেন, ‘সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। মাটি ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের বিষয়টি জানানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে আবার দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে শেষ করা হবে অবশিষ্ট কাজ।’




