৬৭ লাখ টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির নেই সংযোগ সড়ক। ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে চার বছর পরও ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক সংস্কার হয়নি। কাঁচা ও নিচু সড়কটি ডুবে যায় বর্ষার পানিতে। ফলে গজারিয়া ও আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষ, বিশেষ করে কৃষক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের চলাচলে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রামীণ রাস্তার ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে নিরর্মাণ করা হয় সেতুটি। গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া থেকে মুচারিয়া পাথার যাওয়ার সড়কে গনি মাস্টারের বাড়ির পশ্চিম পাশে গুহালিয়াখালের ওপর ১৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতু। এতে ব্যয় হয় ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪২৩ টাকা।
সেতুটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম কে ট্রেডার্স, মধুপুর, টাঙ্গাইল। বাস্তবায়নে ছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক এখনো কাঁচা ও নিচু। ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয় সড়কটি। বর্ষাকালে পানি জমে সড়কটি আরও বেহাল হয়ে পড়ে। ফলে সেতু নির্মাণ হলেও সেটি ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। কলা, লেবু, ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু সংযোগ সড়কের কারণে এসব পণ্য পরিবহনে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক কৃষক ঠেলাগাড়িতে করে কলার কাঁদি নিয়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পাশের বাটাজোড় হাটে যান।
এ ছাড়া জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য গজারিয়া চৌরাস্তা হয়ে অথবা বাঘবেড় হয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয় গ্রামবাসীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক কামরুল হাসান বলেছেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে জরুরি রোগীকেও কোনো যানবাহনে নেওয়া যায় না। হেঁটে চলাচল করাও কঠিন। স্বাভাবিক সময়েও হেঁটে সেতুতে ওঠা অনেক কষ্টকর।’
স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আল মামুন জানালেন, গজারিয়া ইউনিয়নের ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য পাথারপুর গ্রামে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এই ক্লিনিক থেকে অনেক মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেন; কিন্তু সংযোগ সড়কের কারণে সেখানে যেতে গ্রামবাসীকে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে সড়কটি সংস্কার করা হলে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
স্থানীয় কলা বিক্রেতা চান মাহমুদ বলেছেন, ‘ব্রিজের দুইপাশের রাস্তার মাটি ভরাট কইরা নতুন রাস্তা বানাইয়া আমাগো গ্রামবাসীর চলাচলের ব্যবস্থা কইরা দিলে আমি খুব খুশি হইতাম। আমি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেইকা কলা ও কলাপাতা কিনা নিয়া ঠেলাগাড়ি ও সাইকেলে কইরা বাটাজোড় হাটে যাই বিক্রি করতে। কলা ও কলাপাতা বিক্রি কইরা আমার সংসার চালাই। এই রাস্তাটি হইলে আমাগো হাটে যাইতে খুব সুবিধা হইবো ও সময় কম লাগবো।’
এ বিষয়ে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সেতুর দুই পাশের রাস্তা তুলনামূলক নিচু হওয়ায় সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। খুব শিগগির মাটি ভরাট করে রাস্তা উঁচু করে চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





