অতিরিক্ত ২ টাকায় লাখ টাকার বাণিজ্য

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগের টিকিট তিন টাকা। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে পাঁচ টাকা। অতিরিক্ত নিচ্ছে মাত্র দুই টাকা। একটা সময় পর এই দুই টাকাই হয়ে যাচ্ছে লাখ টাকা। একইভাবে জরুরি বিভাগে ভর্তি ফি পাঁচ টাকা। আদায় হচ্ছে ১০ টাকা।
এভাবে গত ছয় মাসে শেরপুরের শ্রীবরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ৪৩ হাজার ৫১২ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রোগীর পকেট কাটলেও এ বিষয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সংশোধিত পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা ফি তিন টাকা এবং ভর্তি ফি পাঁচ টাকা। প্রতিদিন টিকিট বিক্রির অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার বিধান।
হাসপাতালের পরিসংখ্যানবিদ রোকনুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ হাজার ৭৫৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮ হাজার ৭৬০ জন, মার্চে ৯ হাজার ১৪ জন, এপ্রিলে ১১ হাজার ৭৩৫ জন, মে মাসে ৯ হাজার ৩৬০ জন এবং জুনে ১৩ হাজার ১১৯ জন বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এই ছয় মাসে বহির্বিভাগের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ টাকা আদায় করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারীর দাবি, এই অতিরিক্ত টাকা হাসপাতালের কার্ডিওগ্রাফার মো. বাবুল আদায় করছেন।
একই সময়ে জরুরি বিভাগে জানুয়ারিতে ৬৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৬৬৬ জন, মার্চে ৭৪৮ জন, এপ্রিলে ৮২৯ জন, মে মাসে ৬২০ জন এবং জুনে ৮৭৫ জন রোগী ভর্তি টিকিট সংগ্রহ করেন। এ খাতে ছয় মাসে অতিরিক্ত ২২ হাজার ২০ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, কার্ডিওগ্রাফার মো. বাবুল টিকিট বিক্রি করছেন। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, তিন টাকার টিকিটের জন্য তাদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি কয়েকজন রোগীও জানান, ভর্তি ফি পাঁচ টাকার পরিবর্তে তাদের কাছ থেকে ১০ টাকা নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী হেলাল বললেন, ‘এখানের টয়লেটের অবস্থা একেবারে বাজে। ভেতরে গেলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যায়।’
বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সেবাগ্রহীতা বেগমের ভাষ্য, ‘দীর্ঘ এক বছর ধরে আমি এখানে ডাক্তার দেখাচ্ছি এবং প্রতিদিনই আমার কাছে টিকিটের দাম পাঁচ টাকা করে নিছে। আমরা জানতাম না টিকিট তিন টাকা।’
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা কার্ডিওগ্রাফার মো. বাবুল বলেছেন, ‘দুই টাকা খুচরা থাকে না, তাই পাঁচ টাকা করে রাখি। তবে অতিরিক্ত টাকা শেষে টিকিট বাড়তি দেখিয়ে টাকা সমান করে দেই।’
হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অমিয় জ্যোতি সাইফুল্লাহ জানালেন, ‘অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।’ বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট কাউন্টারে গিয়ে রোগীদের উদ্দেশে বলেন, ‘টিকিট মূল্য তিন টাকা, কেউ পাঁচ টাকা দিবেন না।’
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি চলে যাওয়ার পর আবারও পাঁচ টাকা করেই টিকিট বিক্রি করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাদাত মোহাম্মদ মফিদুল ইসলাম বললেন, ‘বহির্বিভাগের টিকিটের মূল্য তিন টাকা এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি ফি পাঁচ টাকা। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





