খরচ নিয়ে ‘ঠেলাঠেলি’, বন্ধ ১১২ কিমি সড়ক সংস্কার
- দুই-তিন বছর ধরে দুর্ভোগে নগরবাসী
- মেরামতে কেসিসি চায় ৬৪১ কোটি
- ওয়াসা দিয়েছে ১১২ কোটি

খুলনা নগরীর কাটা রাস্তা— আগামীর সময়
দুই বছর আগে খুলনা নগরীর স্যার ইকবাল রোড বাইলেন এবং ধর্মসভা ক্রস রোডে সিসি ঢালাই কেটে সুয়ারেজের লাইন বসানো হয়। কাটা সেই সড়ক এখনো মেরামত করা হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
শুধু নগরীর স্যার ইকবাল রোড বাইলেন এবং ধর্মসভা ক্রস রোডই নয়, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত নগরীর ১৭ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে অলিগলিসহ ২০০ কিলোমিটার সড়ক কেটে সুয়ারেজের পাইপলাইন বসানো হয়েছে। যারমধ্যে মেরামত হয়েছে ৮৮ কিলোমিটার। কিন্তু খুলনা সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার মধ্যে ব্যয় নিয়ে ঠেলাঠেলিতে দুই ও তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বাকি ১১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার।
ওয়াসা জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এলাকার পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য ২০২০ সালের ২৮ জুলাই খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ ১ হাজার ৪০৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৯২৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। তবে নানা কারণে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৮০ ভাগ কাজ। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শহরের বিভিন্ন অলিগলি ও সড়কে পাইপ বসানোর পর খুঁড়ে রাখা হয়েছে। খোঁড়া সড়কগুলো নিয়ে দুভোর্গ ও ভোগান্তিতে পড়েছে নগরের বাসিন্দারা। প্রায় ঘটছে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা। রিকশা, ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহনের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।
নগরীর স্যার ইকবাল রোড বাইলেনের বাসিন্দা রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তার বাড়ি সামনে সড়কটি দুই বছর আগে কেটে সুয়ারেজ লাইন বসানো হলেও এখনো মেরামত করা হয়নি। এতে রিকশা ও ইজিবাইক সড়কটিতে ঢুকতেই চায় না। মালামাল আনা-নেওয়া এবং অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়া-সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া রাতে চলাচল করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছে অনেক মানুষ।
লুৎফর রহমান সড়কের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন, তিন বছর আগে তার বাড়ির সামনের সড়ক খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু আজও সংস্কার করা হয়নি। চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কটির পাশের বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছে। রিকশা ও ইজিবাইক সড়কটিতে যেতে চায় না। কেউ যেতে রাজি হলেও দুই-তিন গুন বেশি ভাড়া দাবি করে।
বিষয়টি নিয়ে খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক খান সেলিম আহমেদ জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনকে সড়ক মেরামতের জন্য ভ্যাট বাদে ১১২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে করপোরেশন ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৮ কিলোমিটার মেরামত করেছে। কিন্তু পরে তারা সাত দফায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৬৪১ কোটি টাকা দাবি করছে। কিন্তু প্রকল্পের ডিপিপিতে সড়ক মেরামতে ধরা আছে মাত্র ১৫০ কোটি টাকা। ফলে করপোরেশনের দাবি অনুযায়ী টাকা দেওয়া অসম্ভব।
প্রকল্প পরিচালক আরও বলেছেন, করপোরেশন যদি বাকি সড়ক মেরামত করতে না চায়, তাহলে হিসাব বুঝিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দিলে ওয়াসা নিজ উদ্যোকে বাকি সড়ক সংস্কার করবে।
তবে করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ মাসুদ করিম বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রশাসক স্যারের সঙ্গে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কথা হয়েছে। তারা আলোচনা করে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবেন।’





