অসমাপ্ত ড্রেনের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শিশু ইফাতের

ছবি: আগামীর সময়
কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার এলংগী গ্রামে নির্মাণাধীন ড্রেনের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে মো. ইফাত নামে ছয় বছরের এক শিশুর। সোমবার বিকেলে ঘটেছে এ ঘটনা।
নিহত ইফাত স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে সে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিকেলে চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ির পাশে ছাগল চরাতে বের হয়েছিল ইফাত। খেলার একপর্যায়ে সড়কের পাশের গভীর গর্তে পড়ে যায় সে। পরিবারের সদস্যরা ঘণ্টাখানেক খোঁজাখুঁজির পর তার স্যান্ডেল ভাসতে দেখেন নির্মাণাধীন ড্রেনের জমে থাকা পানিতে। পরে স্থানীয়রা পানি থেকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তান হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন মা শারমিন আক্তার। এদিকে শোক সইতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা কামরুল হাসান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় এক বছর আগে ৫০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খনন করা হলেও কাজ আর এগোয়নি। বর্ষার পানি জমে সেখানে তৈরি হয়েছে ৭ থেকে ৮ ফুট গভীর খাদ। যথাসময়ে কাজ শেষ করা হলে কিংবা নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া থাকলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
নিহতের চাচা সামছুম আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে খনন করা ড্রেনে পানি জমে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না ঠিকাদার।
এ বিষয়ে স্থানীয় ঠিকাদার লিটন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে ওই এলাকায় কাজ চলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তিনি। তবে শিশুর মৃত্যুর প্রসঙ্গ ওঠতেই কিছু জানেন না উল্লেখ করে কেটে দিয়েছেন ফোনকল।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আক্তার। ঠিকাদারের কোনো অবহেলা আছে কি না তা তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন।




