সাঁথিয়ায় মসজিদের ইমামতি নিয়ে সংঘাত
এমপি মোমেনের বিরুদ্ধে নৈরাজ্যের অভিযোগ বিএনপির

বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপিকেই বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করেছেন ওই সংসদ সদস্য।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সাঁথিয়ার আফতাবনগর জামে মসজিদে জোরপূর্বক ইমামতি করার চেষ্টা এবং এর জেরে এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সাঁথিয়া পৌর বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি আফতাবনগর জামে মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার মূল কারণ সংসদ সদস্য নজিবুর রহমান মোমেনের জোরপূর্বক ইমামতি করার চেষ্টা।
তার দাবি, মসজিদ কমিটির সদস্যরা ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, তারা সংসদ সদস্যকে ইমামতির জন্য আমন্ত্রণ জানাননি। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য সত্য নয় বলেও অভিযোগ।
লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, নিয়মিত ইমাম ও মসজিদ কমিটির অনুমতি ছাড়া এবং উপস্থিত মুসল্লিদের আপত্তি উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য খুতবা ও ইমামতি করার চেষ্টা করেন। এতে সাধারণ মুসল্লিদের প্রতিবাদের মুখে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিএনপির দাবি, এ সময় সংসদ সদস্যের অনুসারী ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মসজিদের ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যের ইন্ধনে সাঁথিয়া বাজারে জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাহাত ব্যাপারীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় মুজাহিদ ফকির, সাদ্দাম ফকিরসহ কয়েকজন সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিএনপি নেতারা ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানান। পাশাপাশি ছাত্রদল নেতা রাহাতের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তারা।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেছেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাঁথিয়ার বিভিন্ন মসজিদে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এখন ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহকে জড়িয়ে অসত্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক ইকবাল, সাবেক আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বন্দে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সরদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের অনুরোধেই আমি ইমামতি করতে গিয়েছিলাম এবং এর জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের অনুমতির প্রয়োজন নেই।’
ছাত্রদল নেতা রাহাত ব্যাপারীর ওপর হামলার ঘটনাকে তিনি ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা তার দলের কর্মী নন বলেও উল্লেখ করেছেন।





