বিলাসপুরে এবার সেপটিক ট্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণ

ককটেল বিস্ফোরণে সেফটিক ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুরে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এবার এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ঘটেছে বিস্ফোরণের ঘটনা। এতে ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হতাহত হননি কেউ। তবে বারবার এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারীকান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে।
পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,সোমবার সন্ধ্যায় প্রবাসী আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির পেছনে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ওপর একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। তবে প্রথমে ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা তল্লাশির পর বিস্ফোরণের স্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে আগে থেকেই রাখা ছিল ককটেলটি। তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে বিস্ফোরকটি রেখেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েক মাসে বিলাসপুর ইউনিয়নে একাধিকবার ককটেল-সংক্রান্ত ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আধিপত্য বিস্তার ও বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার করলেও একই এলাকায় বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত শুরু হলেও নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ফলে একই এলাকায় বিস্ফোরক-সংক্রান্ত ঘটনা বারবার ঘটছে।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মদ জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। কীভাবে বিস্ফোরকটি সেখানে এলো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। পাশাপাশি ওই এলাকায় জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও।
জাজিরার বিলাসপুর ইউনিয়নে ককটেল আতঙ্ক যেন থামছেই না। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ওই এলকায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। এরপর পুলিশ ও যৌথ বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কারখানার সন্ধান পায় এবং ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার ভাষ্য, গত দুই মাসে বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন।
পদ্মা নদীতীরবর্তী বিলাসপুর ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ককটেল ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি একটি চক্র এলাকায় ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে বলেও অভিযোগ আছে।





