টুঙ্গিপাড়ায় পাটের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্যের আশায় কৃষকরা

পাট কেটে জাগ দিচ্ছেন কৃষকেরা। ছবি: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলনে উজ্জীবিত কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, রোগবালাইয়ের কম প্রকোপ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই আশানুরূপ ফলন হয়েছে পাটের।
এরইমধ্যে পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন অনেক কৃষক। তবে উৎপাদনের সুফল পেতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলার পাটগাতী, গোপালপুর, ডুমুরিয়া, কুশলী, বর্ণী ও গিমাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে এবার আবাদ হয়েছে পাটের।
কৃষকদের ভাষ্য, অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে পাটের গাছ লম্বা হয়েছে এবং আঁশের মানও ভালো। ফলে উৎপাদন নিয়ে তারা আশাবাদী।
কুশলী ইউনিয়নের কৃষক নুর ইসলাম শেখ জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের বৃদ্ধি খুব ভালো হয়েছে। গাছ লম্বা হয়েছে এবং আঁশের মানও উন্নত। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভ করা সম্ভব হবে।
একই ইউনিয়নের কৃষক অমল বৈরাগী জানিয়েছেন, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বেশি হয়েছে। এখন ন্যায্যমূল্য পেলেই তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
গোপালপুর ইউনিয়নের কৃষক সুশান্ত বিশ্বাস বলেছেন, ‘ফলন ভালো হলেও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে উৎপাদন ব্যয় মিটিয়ে লাভ করা সম্ভব হবে।’
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৫৭১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এতে ৫ হাজার ৮৫৫ জন কৃষক পাট চাষে যুক্ত রয়েছেন। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে প্রায় ৪ হাজার ৬৩৪ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
তিনি জানান, এবার উপজেলায় ফলনশীল তোষাপাট-৮ (বারি-১) এবং জেআরও মহারাষ্ট্র (বঙ্কিম) জাতের পাটের আবাদ হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের আন্তরিক পরিচর্যার কারণে ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এই কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা গেলে কৃষকরা বেশি লাভবান হবেন। এতে পাট চাষে তাদের আগ্রহও আরও বাড়বে।





