রাত নামলেই চুরি আতঙ্ক মেঘনায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমিল্লার মেঘনায় রাত নামলেই চুরির আতঙ্কে আট ইউনিয়নের মানুষ। এর মধ্যে প্রতিদিনই অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কোনো না কোনোভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে। কোথাও সিঁধ কেটে, কোথাও ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে, আবার কোথাও ভিন্ন কৌশলে এসব চুরি হচ্ছে। এসব ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে তিন লাখ টাকা বা তারও বেশি মূল্যের অর্থ-সম্পদ চুরি হচ্ছে। সে হিসাবে মাসে চুরি হওয়া অর্থ-সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।
সর্বশেষ রবিবার ভোররাতে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দি গ্রামের গাজী বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হন মৌলভী গাজী বোরহান উদ্দিন। এই সুযোগে চোর ঘরে ঢুকে চারটি মোবাইল ফোন ও নগদ প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে তার ঘুমন্ত সহধর্মিণীর কক্ষে ঢুকে গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে একইভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক মাসের চিত্রে দেখা যায়, প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ১৬০টি পর্যন্ত চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি ঘটনায় গড়ে তিন লাখ টাকা করে ক্ষতি হলে মাসে চুরি হওয়া অর্থ-সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় চার কোটি ৫০ লাখ থেকে চার কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে এটি কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়। অনেক ঘটনায় থানায় অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় চুরির প্রকৃত সংখ্যা ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চোরের হাত থেকে রেহাই মিলছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে মূল্যবান সম্পদ, কিছুই। মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার পাশাপাশি গরু-ছাগল, পানির মোটর, টিউবওয়েল ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটছে। এমন কী বাড়ির আঙিনার গাছের ফলও চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একসময় বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা দিলেও চুরি এখন অনেক গ্রামের মানুষের নিয়মিত দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন অনেকে। রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ছে সেই আতঙ্ক।
দক্ষিণ কান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী বোরহান উদ্দিনের ভাই গাজী ইব্রাহীম বলেন, গভীর রাতে বাড়ির পেছনের অংশ কিংবা নির্জন জায়গা দিয়ে চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
শুধু দক্ষিণ কান্দি নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামেও একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে রাতে বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। চুরির ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের পাশাপাশি রাতে গ্রামাঞ্চলে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ কান্দি গ্রামে আজকের চুরির ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।




