চর দখল নিয়ে টেঁটাযুদ্ধে নারী নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৫

তিতাস উপজেলার ভাটেরারচরের অধিকাংশ বাড়ি পুরুষ শূন্য। ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ৬১ জনের নাম উল্লেখসহ আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, মাইনুদ্দিন (৪০), মো. হান্নান (২৬), কাশেম বেপারী (৬০), মো. রানা (২১) এবং মজিদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সুরুজ মিয়া (৬২)।
তাদের মধ্যে চারজনকে ঘটনার দিন রাতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়। পরে হত্যা মামলায় তাদের এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়।
আজ বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া অপর আসামি সুরুজ মিয়াকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে মেঘনা থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন নিহত কুহিনূর আক্তারের (৩৮) স্বামী মো. কাবিল মিয়া।
আগামীর সময়কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা উপজেলার চর বিনোদপুর ও আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের বিরোধ চলছিল।
গত রবিবার দুপুরে তিতাস উপজেলার ভাটেরারচরের প্রবাসী শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। সেখানে চর বিনোদপুর গ্রামের আলী আকবর ও তার লোকজন তাদের মারধর করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে ভাটেরারচরের লোকজন গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।
এর জেরে সেদিন বিকালে দুই পক্ষের মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। সংঘর্ষ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে চর বিনোদপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কুহিনূর আক্তারের গলায় টেঁটা বিদ্ধ হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে এদিকে মামলার পর গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামের অনেক পুরুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে গ্রামটিতে স্বাভাবিক জনচলাচল কমে গেছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা আলতামুন নেছা, আফিয়া বেগম ও শামসুন্নাহার অভিযোগ করেছেন, পরদিন সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করে এবং বাড়িঘরে লুটপাট চালায়। তারা নিরাপদে বাড়িতে ফিরে বসবাসের সুযোগ এবং কুহিনূর আক্তার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
ওসি শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





