স্বাস্থ্য খাতে ৪০ শতাংশ পদ শূন্য, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ

দেশের স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এ জনবল সংকট কাটাতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সচল করা এবং টিকাদান ও রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহীর নগরীর একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলনকক্ষে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান, ওপেন এসআরপি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক কর্মশালা তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। তবে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে চাপ রয়ে গেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, গত ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের উপস্থিতির হার প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। তবে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় সেবা দিতে চাপ রয়ে গেছে।
তিনি বললেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে হাসপাতাল ও শয্যাসংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতিও পূরণ করতে হবে। সরকার পর্যায়ক্রমে এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার কাজ করছে।
উপজেলা পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়াতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। সাধারণ পরীক্ষা করাতে রোগীদের যেন দূরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের সুরক্ষায় চলমান টিকাদান ও ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইনের আওতায় ইতিমধ্যে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এ রোগে মৃত্যুহার কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বললেন, তথ্য বিশ্লেষণ করে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর মাসে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোতে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো মশা ও মশার লার্ভা নিধনে কাজ করছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সারা দেশে দুই হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সংক্রমণের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক বেশি হলেও রাজশাহী বিভাগে তা কম রয়েছে।
স্বাস্থ্যনীতিতে রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই উত্তম। টিকাদান, জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা গেলে মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল-ইসলাম এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফায়সল আলম উপস্থিত ছিলেন।




