তনু হত্যা : সন্দেহভাজন দুই সাবেক সেনাসদস্যকে ধরতে রেড নোটিস

সংগৃহীত ছবি
এক দশক ধরে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে রেড নোটিস জারির নির্দেশ।
সোমবার বিকালে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক দেন এ আদেশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া দুজন হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ (৪৭) ও সাবেক সৈনিক শাহীন আলম (৩৭)। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে ছিলেন কর্মরত। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। তনুর পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত।
অন্যদিকে শাহীন আলম হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসের ২ নম্বর সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে ছিলেন কর্মরত। তার বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তিনি বর্তমানে কুয়েতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তিনিও সেনাবাহিনী থেকে নিয়েছেন অবসর।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে একটি আবেদন করেন। আবেদনে দুই সন্দেহভাজন সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ইন্টারপোলে রেড নোটিস জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি তনু হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তদন্ত তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সরবরাহে জানানো হয় অনুরোধ।
এদিকে মামলার তদন্তে নতুন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সর্বশেষ ডিএনএ পরীক্ষায় নতুন একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা হয়েছে শনাক্ত। এর মধ্যে আগেই তিনজনের শুক্রাণুর নমুনা পাওয়া গিয়েছিল, আর নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির রক্তের নমুনা মিলেছে।
সোমবার একই মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর দেন নির্দেশ। ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া হাফিজুর রহমানকে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে করা হয় গ্রেপ্তার। তনু হত্যার সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে ছিলেন কর্মরত।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজ এলাকার কাছে ঝোপের মধ্যে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। ঘটনার পর তনুর বাবা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে করেন হত্যা মামলা। দীর্ঘ সময় থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই।




