মাদারগঞ্জে সমবায় গ্রাহকদের বিক্ষোভ, উপজেলা পরিষদ ঘেরাও

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সমবায় সমিতিতে জমা রাখা আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রায় দুই হাজার গ্রাহক।
আজ রবিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা চলা এ কর্মসূচিতে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এ সময় এক গ্রাহক ও নয় নারীকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও ওঠে।
‘আন্দোলনরত সকল বঞ্চিত গ্রাহক’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকেরা অংশ নেন। দুপুরে মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম চৌরাস্তা থেকে ‘অর্থ উদ্ধার আন্দোলন’র নেতা শিবলুল বারী রাজুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
মিছিলটি হাওয়াই রোড প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ ভবন ঘেরাও করেন।
কর্মসূচি চলাকালে রকিবুল ইসলাম নামে এক গ্রাহকের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে ধাওয়া করে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তার সঙ্গে নয় নারী গ্রাহককেও সেখানে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
জেলা সমবায় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জের ২৩টি সমবায় সমিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব সমিতির সাধারণ গ্রাহক ৩২ হাজার ৪২৪ জন।
প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগ অনুযায়ী, সমিতিগুলোতে গ্রাহকদের প্রায় ৭২০ কোটি ১৯ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী, দিনমজুর, পোশাকশ্রমিক ও চাকরিজীবী রয়েছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ সমবায় সমিতিগুলোর অধিকাংশের পরিচালক বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাসীন দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।
তাদের আরও অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতারও একাধিক সমবায় সমিতির অর্থ অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানা যায়নি।
অর্থ উদ্ধার আন্দোলনের নেতা শিবলুল বারী রাজু বলেন, তিন বছর ধরে আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে টাকা ফেরতের আন্দোলন করে আসছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো গ্রাহক সঠিকভাবে আমানত ফেরত পাননি। গ্রাহকদের আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে। সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সাধারণ গ্রাহকেরা মেনে নেননি। কারণ, ওই প্রতিশ্রুতি মূলত প্রতারক মালিকপক্ষের, তা ভুক্তভোগী সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করে না।
রকিবুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে জানতে চাইলে শিবলুল বারী রাজু বলেন, ওই ব্যক্তি চলমান আন্দোলনের মাঝে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সামনে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধাওয়া করে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয়জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে এমপি ও অর্থ উদ্ধার কমিটির সঙ্গে কথা হয়েছিল। তারা আন্দোলন করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এখন কী কারণে আবার আন্দোলন করছেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তিনি জানান, এ সময় তিনি জেলা পর্যায়ের একটি সভায় ছিলেন।




