ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড তদন্তে কমিটি, মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড তদন্তে একটি কমিটি হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর ছড়ালেও এখনো তা নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। তদন্ত কমিটি মৃত্যুর তথ্যগুলোও যাচাই করবে বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এ অগ্নিকাণ্ডের সময় হুড়োহুড়িতে শাহজাহান (৪০) নামে এক রোগী মারা যান বলে তার স্বজনরা দাবি করেছেন। তিনি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এর বাইরে ওই সময় আরও অন্তত চারজনের মৃত্যু হয় ওই হাসপাতালে। অগ্নিকাণ্ডই তাদের মৃত্যুর কারণ বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো তা নিশ্চিত করেনি।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আজ মঙ্গলবার সকালেও ভবনটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
আগুন না ছড়ালেও ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তখন আতঙ্কে রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি দেখা দেয়।
৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ড তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের খবর দিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউর রহমান। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। সদস্যরা হলেন ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাজেদুর রহমান, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণচন্দ্র মুৎসুদ্দী এবং হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাউন উদ্দিন খান।
অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগও সামনে এসেছে। হাসপাতালের লিফটগুলো প্রায়ই অচল থাকত বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন ভবনে একাধিক সিঁড়ি থাকলেও মূল সিঁড়িটি ছাড়া অন্যগুলো খোলা থাকত না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেছেন, কারও গাফিলতির কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
আগুন লাগার পর হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হওয়ার কথা গত রাতেই জানিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।
যে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল, তাদের একজন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের নাজিমউল্লাহর ছেলে শাহজাহান (৪০)। তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
তার স্ত্রী হারিছা বেগম আগামীর সময়কে বলেছেন, আগুন লাগার সময় তারা হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলেন। স্বামীকে নিয়ে নামতে শুরু করেন তিনি। হুড়োহুড়ি ও ভিড়ের চাপে তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।
জ্ঞান ফেরার পর স্বামীকে পাশে না দেখে খোঁজ শুরু করেন হারিছা। তখন এক নার্সের কাছে খবর পেয়ে আইসিইউতে গিয়ে স্বামীকে মৃত অবস্থায় পান তিনি।
পাঁচজনের মৃত্যু নিয়ে গতরাতে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবিরকে। তিনি আগুন ও মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতাল গিয়েছিলেন।
হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য সঠিক নয়। হুড়োহুড়িতে অনেকে আহত হয়েছেন বা ব্যথা পেয়েছেন।
মৃত্যুর বিষয়ে কাগজপত্র ও রোগীর তালিকাসহ সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিভাগীয় কমিশনার বলেছিলেন, যাচাইয়ের পর যদি অগ্নিকাণ্ডে কারও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তা গণমাধ্যমে জানানো হবে।
মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানান, যেসব মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছে, তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, আলোচনায় আসা ব্যক্তিদের মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনদের কেউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি। ঘটনার পর কয়েকজন স্বজন লাশ নিয়ে চলে গেছেন বলে তারা শুনেছেন। এ কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এখন বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।




