শ্রীপুরে নারীকে আ. লীগ নেতার মারধর, গ্রেপ্তারে এমপির আলটিমেটাম

সংগৃহীত ছবি
জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ওপর করা হয়েছে হামলা, মারধর ও লুটপাট। এমনকি করা হয়েছে নারী নির্যাতনও। এমনই অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আসামিদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
শনিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে
১০টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। পরে রবিবার
শ্রীপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে য়ের করা হয়েছে
মামলা।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম।
আহতরা হলেন- বেড়াইদেরচালা এলাকার সমলা খাতুন (৯৫), সাইফুল ইসলাম (৪০), মাসুদা আক্তার (৪২) ও বীথি আক্তার (২৫)।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মৃত হোসেন আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (৪৮), তার ভাই সুলতান উদ্দিন (৫০), ফয়সাল (৩০), ফাহাদ (২৮), নুজবেল (২৫), আমিনুল (২৮), হেলাল (৩৮), রাজিব (৩৫), শহিদুল (৪৫) ও আমানত (২৫)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাবিবুল্লাহ লাঠি হাতে এক নারীকে মারধর করছেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন। একপর্যায়ে তার ছেলেও ওই নারীকে মারতে উদ্যত হন।
মামলার বাদী তাইজুল ইসলামের ভাষ্য, অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সংশ্লিষ্ট জমিতে আসামিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এরপরও তারা জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
তিনি দাবি করেন, শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি বিরোধপূর্ণ জমি থেকে কাঁঠাল পাড়তে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। কিছু সময় পর অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ছোট ভাই আতিকুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের উঠানে ফেলে মারধর করেন। এ সময় নারীদের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া আসামি আমিনুল তার ভাইয়ের স্ত্রীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।
নারী নির্যাতন ও মারধরের খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে যান সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাবিবুল্লাহ ওই এলাকায় দুর্ধর্ষ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাও রয়েছে। এখনো এলাকায় এসে তিনি ত্রাস সৃষ্টি করছেন, নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। সামান্য ঘটনায় একজন নারীকে এভাবে মারধরের ঘটনা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেবে। তিনি থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




