কবর থেকে কথিত পীরের লাশ তুলে দরবারে দাফন, পুলিশের হস্তক্ষেপে পুনর্দাফন

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয় কথির পীর শামীমের লাশ। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গণপিটুনিতে নিহত কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ দাফনের পাঁচ মাস পর কবর থেকে তুলে নিজ দরবার শরিফে পুনরায় দাফনের চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে অনুসারীরা ফিলিপনগরের কবরস্থান থেকে লাশটি তুলে দরবার শরিফে দাফন করেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেলে দরবার শরিফ থেকে লাশটি তুলে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার মধ্যরাতের কোনো এক সময় পীর শামীমের অনুসারীরা ফিলিপনগরের কবরস্থান থেকে লাশটি তুলে দরবার শরিফে নিয়ে যান। সেখানে লাশটি পুনরায় দাফন করা হয়। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত পীর শামীমের ভাই মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘রাতের আঁধারে কারা কীভাবে কবর থেকে লাশ তুলে দরবারে নিয়ে গেছে, তা আমরা জানতাম না। সকালে দেখতে পেয়েই পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিই।’
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বেলা ৪টার দিকে দরবার শরিফ থেকে লাশটি তুলে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে লাশ আগের স্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গত ১১ এপ্রিল দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের দরবার শরিফে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মো. খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।






