মেঘনা থেকে একে একে উদ্ধার তিন কিশোরের রক্তাক্ত মরদেহ

ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনায় নেমে তলিয়ে যাওয়া তিন কিশোরের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে একে একে। তাদের দেহে আঘাতের চিহ্ন দেখেছে নৌ-পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, বাল্কহেডের ধাক্কায় নিহত হয়েছে তারা।
আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ভাটিবন্দর এলাকার মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হয় ১৫ বছরের জমজ ভাই আরিফিন আহমেদ ও আশিকিন আহমেদ এবং তাদের বন্ধু আবিদ হোসেন।
ঢাকা থেকে যাওয়া ডুবুরি দল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে খুঁজে পায় আরিফিন ও আশিকিনের লাশ। আবিদের মরদেহ উদ্ধার হয় বিকাল সোয়া ৫টার দিকে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছেন এসব।
আরিফিন ও আশিকিন উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের মজলিস এলাকার ফারুক আহমেদের ছেলে। দুই ভাই পড়ত মোগরাপাড়া এইচজিজিএস স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনে নবম শ্রেণিতে। তাদের পাশের বাড়ির আব্দুল আলিমের ছেলে আবিদ। সে পড়ত একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর ১২টার দিকে চার কিশোর ওই নদীতে গোসলে নামে। এদের একজন উঠে এলেও অন্যরা তলিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
আশিকিন ও আরিফিনের বাবা ফারুক আহমেদ বললেন, ‘সকালে তারা স্কুলের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পরে মোবাইল ফোনে জানতে পারি যে তারা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছে। আমার এখন বুক খালি হয়ে গেল। কী নিয়ে এখন বাচঁব?’
সন্তান নিখোঁজের খবরে মেঘনা নদীর তীরে জড়ো হন পরিবারের সদস্যরা। ভিড় জমান স্থানীয়রাও। মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
স্থানীয়রা বলছেন, ভাটিবন্দর এলাকায় কয়েকটি বাল্কহেড নোঙর করা অবস্থায় দেখেছেন তারা। চার কিশোর সেগুলোর পাশ দিয়ে গোসল করতে নামে। স্থানীয়দের ধারণা, বাল্কহেডের পাখায় আঘাত পেয়ে তলিয়েছে তিনজন।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাহবুব আলম জানিয়েছেন, মরদেহগুলো রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।




