পিরোজপুরে ডেঙ্গুর ডঙ্কা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পিরোজপুরে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু পরিস্থিতি। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮১১ জন। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলায় মৃত্যু হয়েছে একজনের। আক্রান্তের দিক দিয়ে পিরোজপুরের পরেই রয়েছে ঝালকাঠি। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৯৮ জন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বরগুনা। গত আট মাসে সেখানে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৯০৯ জনের। এ ছাড়া বরিশালে ৬৯৯, পটুয়াখালীতে ৬৫৪ ও ভোলায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৪৮ জন। এর বাইরে শের-ই-বাংলা ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে আরও ৬৬২ জন।
পিরোজপুরে আক্রান্তের হার যেমন বেশি, তেমনি প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৩৪ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালগুলোয় এখনো চিকিৎসাধীন ৯৭ জন। এর মধ্যে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৫ জন। এ ছাড়া নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫, নেছারাবাদে ২৫, কাউখালীতে ৩, ভাণ্ডারিয়ায় ১৭ এবং মঠবাড়িয়ায় দুজন চিকিৎসাধীন। তবে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৭১৩ জন।
হাসপাতালভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত আট মাসে সবচেয়ে বেশি; ৮১১ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে। এ ছাড়া ভান্ডারিয়ায় ৩৪৯, নেছারাবাদে ৩১৫, নাজিরপুরে ১৩৫, কাউখালীতে ১২৪ এবং মঠবাড়িয়ায় চিকিৎসা নিয়েছে ৭৭ জন।
এদিকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। শয্যা সংকটে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে রোগীদের। শয্যা সংকটের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের মশারির ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসাধীন অনেক রোগী নিয়মিত মশারি ব্যবহার করছে না। হাসপাতালের এক নার্সের দাবি, বারবার বলা সত্ত্বেও অনেক রোগী মশারি খুলে রাখে। অথচ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে সেই মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর চাপ থাকলেও ঘাটতি নেই চিকিৎসা উপকরণের। পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিনের ভাষায়, হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ ডেঙ্গুরোগী ভর্তি থাকে। পরীক্ষার জন্য এনএস-১ কিট, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পর্যাপ্ত রয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।
চিকিৎসাব্যবস্থায় সরবরাহ ঠিক থাকলেও ডেঙ্গুর উৎস নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পিরোজপুরে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে সম্প্রতি মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি প্রতিনিধি দল। তাদের অনুসন্ধানে জেলার প্রচলিত কিছু স্থানে এডিস মশার প্রজননস্থল থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে।
সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান জানালেন, আইইডিসিআরের অনুসন্ধানে সুপারি ও নারিকেলগাছের কাটা গোড়ায় জমে থাকা পানি, নারিকেলের খোসা, ভবনের ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, নালা এবং বিভিন্ন নার্সারির টবে জমে থাকা পানিতে পাওয়া গেছে এডিস মশার লার্ভা। তার মতে, শুধু বড় ড্রেন বা নোংরা নালা পরিষ্কার করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না; বাড়ি ও আশপাশের ছোট ছোট পানির আধারও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।







