কারারক্ষী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ

সংগৃহীত ছবি
কারারক্ষী নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে কয়েক দফা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ পরীক্ষার্থী। এতে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা ভোগান্তিতে পড়েন।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে প্রথম দফায় অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। পরে বেলা ১টার দিকে তারা আবারও সড়কে নেমে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরীক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, কারারক্ষী পদে শারীরিক পরীক্ষা চলাকালে উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর বাদ পড়া পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ কারাগারের ভেতর থেকে বের হয়ে এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে এক ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না হওয়ায় তারা আবারও অবরোধে নামেন এবং নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছভাবে নেওয়ার দাবি জানান।
ভোলা থেকে আসা পরীক্ষার্থী ইমরান হোসেন দাবি করেন, শারীরিক পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছে। তার ভাষ্য, নির্ধারিত উচ্চতা মানা হয়নি এবং যাকে খুশি তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরেক পরীক্ষার্থী সুমন সরকার বলেছেন, তার উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি হলেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, অথচ তার চেয়ে কম উচ্চতার অনেকে টিকে গেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যে ধার করে টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিতে এসে অন্যায়ভাবে বাদ পড়ায় তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক লিয়াকত হোসেন জানিয়েছেন, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এদিকে নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেছেন, সারা দেশে প্রায় ৪৬ হাজার ৬০০ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন ১ হাজার ১১৪ জন।
তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক পরীক্ষায় উচ্চতা, ওজন, দৌড়, পুশআপ ও লং জাম্পসহ বিভিন্ন ধাপে মূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্যদের নির্বাচন করা হয়েছে। তার দাবি, কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়নি, যারা বাদ পড়েছেন তারাই এখন সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।




