রবির ভালোবাসায় বাঁচল ৯৮ সাপের প্রাণ

ডিমগুলো ১৫-২০ দিনের পুরনো। লোকজনের নাড়াচাড়ায় দুটি ভেঙে যায়, বাকিগুলোও ওলট-পালট। ভেতরের ভ্রূণগুলো আদৌ বেঁচে আছে কি না, তা নিয়েও ছিল সংশয়। কিন্তু আশা ছাড়েননি বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী রবি কস্তা।
ঝুঁকি নিয়ে ১৫টি ডিম উদ্ধার করে যত্নে সংরক্ষণ করেন তিনি। টানা ৪৫ দিন রাত-দিন নজর রাখেন। অবশেষে একে একে ডিম ফুটে বেরিয়ে আসে ১৪টি পদ্মগোখরার বাচ্চা। একটি ডিম থেকে বাচ্চা বের করে আনতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও ১৪টি প্রাণের বেঁচে ওঠা ভুলিয়ে দেয় তার ৪৫ দিনের কষ্ট।
সম্প্রতি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোপায়া এলাকায় অনিম আহমেদের বাড়ি থেকে ডিমগুলো উদ্ধার করেছিলেন রবি। তার দাবি, গত ৩০ দিনে এভাবে ৯৮টি সাপের বাচ্চার প্রাণ বাঁচিয়েছেন তিনি; ১৫টি দাঁড়াশ ও ৮৩টি পদ্মগোখরা।
সম্প্রতি আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। রাত প্রায় ৩টায় শায়েস্তাগঞ্জের একটি বাড়ির বেডরুমে গর্তের ভেতর সাপের ফোঁস ফোঁস শব্দ শোনার খবর পান তিনি। বন বিভাগকে জানিয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে পালঙ্কের নিচের গর্ত থেকে প্রায় ২৮টি ডিমসহ একটি মা সাপ উদ্ধার করেন।
মা সাপটিকে আলাদা পাত্রে এবং ডিমগুলো ঠান্ডা মাটির ওপর ঝুড়িতে রেখে কলাপাতা দিয়ে ঢেকে নিরাপদ, অন্ধকার জায়গায় রাখা হয়েছে। খাবার হিসেবে দেওয়া তিনটি জীবন্ত লাঠি (টাকি) মাছের দুটি খেয়েছে মা সাপটি, একটি রেখে দিয়েছে।
বাহুবল উপজেলার দাঁড়াগাঁও চা বাগানের বাসিন্দা রবি বলেছেন, পাখির ডিমের মতো সাপের ডিম ঘোরানো যায় না। ডিম উল্টে গেলে ভেতরের ভ্রূণের সূক্ষ্ম রক্তনালি ছিঁড়ে মৃত্যু হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অবস্থানেই রেখে ডিমগুলোর পরিচর্যা করতে হয়। পরে সাতছড়ি অথবা রেমা-কালেঙ্গা অভয়রারণ্যে অবমুক্ত করা হয় সেগুলো। এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার বন্যপ্রাণীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবির পরামর্শ, বাড়িতে সাপ ঢুকলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীকে খবর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডিমসহ মা সাপ পাওয়া গেলে নিরাপদে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা জরুরি।



