রামগঞ্জ
বিদ্যুৎ বিলে অনিয়ম, বছরে ১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়

ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুতের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রামগঞ্জ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা এ অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত মিটার রিডিং না নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মাস কম ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হয়। পরে এক বা দুই মাসে জমে থাকা ইউনিট একসঙ্গে যোগ করায় গ্রাহকদের ধাপভিত্তিক উচ্চ মূল্যহারে বিল পরিশোধ করতে হয়। এতে উপজেলার প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
গ্রাহকদের দাবি, এ কারণে একজন গ্রাহককে বছরে গড়ে ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল দিতে হয়। উপজেলার গ্রাহকসংখ্যা বিবেচনায় অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
গ্রাহক ছোবহান মিয়া,, সজিব হোসেন, ফারুক হোসেন ও মুক্তার হোসেন বললেন, চলতি বছরের জুন মাসে তাদের ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল এসেছে। বছরের বেশিরভাগ সময় কম ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হলেও পরে এক মাসে কয়েক মাসের ইউনিট একসঙ্গে দেখানো হয়। এতে উচ্চ ধাপের ইউনিট রেট অনুযায়ী বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
গ্রাহক রহমত উল্লাহ জানান, আমার মাসে সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। কিন্তু অনেক সময় ৭০ থেকে ১০০ ইউনিট দেখিয়ে বিল দেওয়া হয়। পরে এক মাসে ৩০০ থেকে ৪০০ ইউনিট দেখিয়ে বিল করা হয়। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি টাকা গুনতে হয়।
অভিযোগের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রামগঞ্জ জোনাল অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহম্মদ শাহীন রেজা ফারাজীর ভাষ্য, জুন-জুলাই মাসে গরমের কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ে, তাই অনেকের বিলও বেশি আসে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিটার রিডার সঠিকভাবে রিডিং না নেওয়ায় বিলে অসংগতি হতে পারে। অভিযোগ পেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরই মধ্যে একজন মিটার রিডারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বললেন, কোনো গ্রাহক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





