অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম অনুশীলন বাংলাদেশের

২৩ বছর পর, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে লাল বলে অনুশীলন। ২০০৩ সালের জুলাইতে কেয়ার্নসে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ, এরপর বুড়িগঙ্গা ও মারে-ডার্লিং, দুই নদীতেই অনেক জল গড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের আর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে আসা হয়নি। অবশেষে এবার সেটা হলো, আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় চক্রে এসে ‘ডাউন আন্ডার’ সফরে বাংলাদেশ। ঢাকা থেকে ডারউইন, লম্বা সফর এবং বিশ্রাম শেষে সোমবার প্রথমবারের মতো অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ টেস্ট দল।
২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরি অঞ্চলের ডারউইনে প্রথম টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ, যেটা ছিল ওই মাঠে হওয়া প্রথম টেস্ট। এরপর ২০০৪ সালে সেখানে শ্রীলঙ্কার সঙ্গেও একটি টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, তারপর থেকে গত ২২ বছরে সেখানে আর কোনো টেস্ট হয়নি। দুই দশকের বেশি সময় পর নর্দার্ন টেরিটরিতে ফের সাদা পোশাক আর লাল বলের ক্রিকেটের ফেরা, কারণ অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নেয় না এ অঞ্চলের প্রাদেশিক দল। বিগব্যাশ লিগেও নেই ফ্র্যাঞ্চাইজি। এ অঞ্চলে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতে নর্দার্ন টেরিটরি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অনেক দিন ধরেই উদ্যোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজটি মাঠে গড়ানোর কথা ছিল আগামী বছরের মার্চে। কিন্তু সেই সময়ে ইতিহাসের প্রথম টেস্টের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি বিশেষ টেস্ট আয়োজন করবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, তাই বাংলাদেশের সিরিজ এগিয়ে এলো আর ২০০৪ সালের পর এবারই প্রথম শীতকালে টেস্ট খেলছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্র অস্ট্রেলিয়াকে ফেলে দিয়েছে চাপের মুখে, কারণ সবচেয়ে ব্যস্ত সূচি তাদেরই, ১২ মাসে ২১টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে হতে পারে ব্যাগি গ্রিনধারীদের, যদি তারা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলে। সেই পথে এখন পর্যন্ত তারাই সবচেয়ে এগিয়ে, ৮ ম্যাচ খেলে ৮৭.৫০ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে এখন সবার ওপরে, বাংলাদেশ আছে চারে।
ডারউইনের মারারা ক্রিকেট মাঠ যার পোশাকি নাম ডিএক্সসি অ্যারেনা, সেখানেই অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। মঙ্গল ও বুধবার একই মাঠে চলবে অনুশীলন, বৃহস্পতিবার থেকে এই মাঠেই শুরু হবে বোর্ড সভাপতি একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ।
চোটের কারণে বাংলাদেশ দলে নেই নাহিদ রানা, তাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তার গতির ঝড় দেখার অপেক্ষা বাড়ছে। বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম যদিও উপমহাদেশের বাইরে খুব একটা কার্যকর নন, তবে ডারউইনের কন্ডিশন নাকি অনেকটাই বাংলাদেশের মতো বলে দাবি করেছেন সেখানে খেলা সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার রোমাঞ্চ নিয়ে তাইজুল জানালেন তার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা, ‘যাত্রাপথটা ভালো ছিল, কারণ আমরা আসার সময় একটা ট্রানজিট পেয়েছিলাম। ট্রানজিটে পর্যাপ্ত বিশ্রামের একটা সুযোগ ছিল। তো, আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। আমরা যে সুযোগ সুবিধাটা পাচ্ছি বা ওভারঅল সবকিছু মিলে ভালো প্রস্তুতি হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ প্রথম দিনের অনুশীলন খুব ভালো হয়েছে। সুযোগ-সুবিধা অনেক ভালো। উইকেট থেকে শুরু করে, ফিল্ডিং প্র্যাকটিস থেকে শুরু করে, রানিং থেকে শুরু করে সব ধরনের অ্যাকটিভিটিজ আমরা করতে পেরেছি। খুব ভালো হয়েছে।’




