‘সবজি কিনতেই ৭০০ টাকা শেষ’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরিশালে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে কাঁচা মরিচের দাম। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা কেজি। অতিবৃষ্টির কারণে আমদানি কম থাকায় দাম বাড়তি— এমনই বলছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হচ্ছে সবজির দাম। ফলে চড়া বাজারে দিশেহারা ক্রেতা।
সরেজমিনে বরিশাল নগরীর স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ বাজার ঘুরে চিত্রটা একই দেখা গেছে। নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত মানুষের মধ্যে অনেককেই হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
সিটি মার্কেটের দুলাল বাণিজ্যালয়ের মালিক আমিনুল ইসলাম শুভ বলছিলেন, ‘সপ্তাহ ব্যবধানে সবজির দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারের ১০০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচ এখন পাইকারিতে ৩০০ টাকা। চার সপ্তাহের মধ্যে এমন ব্যবধানে আমরাও হতবাক।
আজ সোমবার পাইকারি বাজারে বেগুন ১৫০, লাউ পিস ৪৫, পেঁপে কেজি ৩০, গাটি কচু ৪০, মান কচু ৫০, পটোল ৫০, টমেটো ১২০, গাজর ১০০, শসা ৪০, বরবটি ৭০, চিচিঙ্গা ২০, কচুর লতি ৫০, করোলা ৮০ এবং কাঁকরোল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও খুচরা বাজারে এসব সবজির দাম ৫০-১০০ টাকা বেশি।
নগরীর নতুন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. সোহাগ বলছিলেন, ‘পাইকারি বাজার থেকে যে দরে আনি সেই অনুযায়ী বিক্রি করি। সামান্য ব্যবসা করে থাকি আমরা। কাঁচা মরিচ কিনতে হয়েছে ৩৮০ টাকা কেজি। এখন ৪০০ টাকায় বিক্রি না করলে সংসার কীভাবে চালাব?’
বাংলা বাজারের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম জানালেন, বরিশালের মার্কেটগুলোয় সবজিসংকট আছে। সকালে সবজি কেনার জন্য পাইকারি বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা চলে। অন্যদিকে সংকটের কারণে বেড়েছে সবজির দাম।
জেলখানার মোড়ে রাতে সবজি বিক্রি করেন লিয়াকত আলী। তার ভাষ্য, ‘প্রতিদিনই বাবুগঞ্জ থেকে সবজি কিনে বরিশাল নগরীতে এনে বিক্রি করতাম, সাধ্যের মধ্যেই দাম ছিল। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে। যে কারণে সেখান থেকে সবজি আনতে পারছি না, তাই পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে সবজি কিনে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মুরতজা রহমান মন্তব্য করেন, ‘১ হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম। চিন্তা ছিল মাছ ও কিছু সবজি কিনব। কিন্তু সবজি কিনতেই ৭০০ টাকা শেষ। কাঁচা মরিচ কিনেছি ১০০ গ্রাম, তাতেই পকেটে ঝাঁজ পৌঁছেছে। বেগুন কিনেছি ২ পিস, তাও ১০০ টাকা দিয়ে। বৃষ্টির কারণে যে সবজির দাম বেড়েছে এটা মানব না। সিন্ডিকেট করে আবহাওয়াকে দোষ দিয়ে বাড়ানো হচ্ছে সবজির দাম। মাছ থেকে সবজির দাম এখন অনেক বেশি।’
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, ‘টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির মাঠ পানিতে ডুবে গেছে। এরপর উজানের পানির কারণে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। এসব কারণেই বাজারে সবজি সরবরাহ কম।’






