স্কুলছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ছবি: আগামীর সময়
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত সোমবার দুপুরে উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়নের রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনার ৫ দিন পার হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মেয়েটি রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার স্কুল চলাকালে মেয়েটিকে ও যুবককে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে ডেকে আনা হয়। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দেবদারুগাছের সঙ্গে গামছা দিয়ে তাদের দুজনকে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর লোকলজ্জা ও মানসিক যন্ত্রণায় বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মেয়েটি। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাহুথড় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার বলেছেন, ‘তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার যুবকরা আমার বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি তাদের দুইজনকে স্কুলে নিয়ে যাই ও অভিভাবকদের হাতে তুলে দেই। তবে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা সঠিক কাজ করেনি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিত সরকার সাংবাদিকদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বললেন, ‘আমি ঘটনার দিন স্কুলে ছিলাম না। পরে ঘটনাটি শুনেছি। স্কুলের সভাপতিও ঢাকায় ছিলেন। তিনি এলাকায় আসছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিদ্যালয়ের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা সাগর মজুমদার জানিয়েছেন, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে. তারা অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক বিচার করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের ভাষ্য, আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






