ড. খন্দকার মোশাররফ
প্রতিহিংসার পরিবর্তে সমৃদ্ধ রাজনীতি চালু করেছেন তারেক রহমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে শান্তির দূত হিসেবে এসেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভয়ের রাজনীতির বিপরীতে তিনি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি চালু করেছেন। দেশের মানুষ তা সাদরে গ্রহণ করেছে।
আজ মঙ্গলবার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাসস্টেশন সংলগ্ন পেন্নাই ঈদগাহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
ড.মোশাররফ বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্বার্থে বিএনপি প্রতিষ্ঠা ছিল সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।
তৎকালীন সরকার একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাক্ ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিল। শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন— উল্লেখ করেন দলটির প্রথম জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন ড. মোশাররফ। বললেন, জাতীয় সমৃদ্ধির জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা অপরিহার্য। গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাংলাদেশকেও এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেখান থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে জনগণ এর সুফল পেতে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. মোশাররফের ভাষ্য, সামাজিক অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। দেশের উন্নয়নের জন্য তার নেতৃত্বে সুস্থ ধারার রাজনীতির প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়ছে। দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে তারেক রহমানের নতুন ধারার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রাজনীতিতে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দুর্নীতি, দুঃশাসন, জুলুম ও নিপীড়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র, অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ধ্বংস করে পালিয়ে গেছে। তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবুল হাশেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, গত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার নতুন স্বপ্ন নিয়ে তিনি কাজ করছেন। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ ও র্যালিতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আওতাধীন দাউদকান্দি, মেঘনা ও তিতাস উপজেলা এবং দাউদকান্দি পৌর বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
এ সময় বিএনপি নেতা এম. এ. লতিফ ভূঁইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদ, পিটার চৌধুরী, রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সালাহউদ্দিন সরকার, দিলারা শিরীন, কাউসার আলম সরকার, আবদুস সাত্তার, এনামুল হক সফর তালুকদার, মো. কামাল হোসেন, আহাম্মদ হোসেন তালুকদার, আরিফ মাহমুদ, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, শাহ আলম সরকার, শরীফ চৌধুরী ও রোমান খন্দকারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এদিন সকাল ১১টায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দাউদকান্দি বাজারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নির্মাণাধীন চারতলা কার্যালয় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় ড. খন্দকার মারুফ হোসেনসহ স্থানীয় উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








