রায়পুরায় বালু থেকে মূল্যবান খনিজ পৃথক করার পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি

সংগৃহীত ছবি
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের উদ্ভাবক আবুল কালাম সাধারণ বালু থেকে বিভিন্ন ধাতব ও খনিজ কণা পৃথক করার একটি অভিনব ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন।
শনিবার দুপুরে তার উদ্ভাবিত বালু থেকে ধাতব ও খনিজ পদার্থ পৃথকীকরণ পদ্ধতি পরিদর্শন করেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।
আবুল কালামের দাবি, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি এ পদ্ধতি তৈরি করেছেন। তিনি বললেন, নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট ধরনের বালু থেকে লোহা, ম্যাগনেটাইট, ইলমেনাইট, টাইটানিয়ামসমৃদ্ধ খনিজ, জিরকনসহ বিভিন্ন ভারী খনিজ কণা পৃথক করা সম্ভব হতে পারে।
উদ্ভাবকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পদ্ধতিতে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে চৌম্বকীয় ও ঘনত্বভিত্তিক পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়। প্রচলিত কিছু পদ্ধতির তুলনায় এটি কম খরচে এবং তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধবভাবে সম্পন্ন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের উপকূলীয় ও নদী অববাহিকার কিছু বালুতে ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, রুটাইল, জিরকন ও গারনেটের মতো ভারী খনিজের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গবেষণা হয়েছে। এসব খনিজ শিল্প, সিরামিক, রং, ধাতু ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর খাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
স্থানীয়রা জানালেন, আবুল কালামের উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, মান যাচাই ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে কার্যকর প্রমাণিত হলে দেশীয় প্রযুক্তিতে বালু থেকে মূল্যবান খনিজ পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে এটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় এ ধরনের উদ্ভাবনকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, পরীক্ষাগারভিত্তিক যাচাই, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া গেলে বাংলাদেশের খনিজসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।




