জামালপুরে ভুল প্রশ্নে ১০০ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা

সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ— সংগৃহীত
জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে ১০০ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ১০০ শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠিয়ে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী নমনীয়ভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর।
আজ শনিবার বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে সরকারি জাহেদা শফির মহিলা কলেজ ও ইউনাইটেড কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। কেন্দ্রের একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলার ৪২০২ নম্বর কক্ষে সরকারি জাহেদা শফির মহিলা কলেজের ১০০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। তাদের জন্য ২০২৬ সালের সিলেবাসভিত্তিক প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। ওই প্রশ্নপত্রেই তারা পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
পরীক্ষা শেষে অন্য শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে তারা বুঝতে পারেন, তাদের ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। প্রশ্নপত্রের ওপরে লেখা ছিল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী। তার মানে এই প্রশ্ন আমাদের ছিল না। পরে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সমাধানের আশ্বাস দেন। আমরা ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তাদের উদাসীনতা ও ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেকের ‘এ প্লাস’ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান বললেন, ‘‘সারা বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। আমরা ১০০ জন অন্য একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলাম। এখন আমার পরীক্ষা কেমন হয়েছে, সেটি বিষয় না। আমরা এখন পাস করব নাকি ফেল করব, সেটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পাস করলেও ‘এ প্লাস’ আসবে কি না, সেটিও জানি না।’’
সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর জানান, আমাদের কাছে যে প্রশ্নপত্র আসে, সেগুলোতে ২০টি প্রশ্নপত্রের একটি বান্ডেল থাকে। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য পাঁচটি বান্ডেল খোলা হয়। প্রতিটি বান্ডেলের ওপরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র লেখা ছিল। কিন্তু ভেতরে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি দেখার সুযোগ না থাকায় শিক্ষকরা বান্ডেল খুলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেন। পরীক্ষা শেষে জানা যায়, এটি মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ছিল।
তিনি আরও জানালেন, বিষয়টি জানার পর আমরা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। বোর্ড থেকে বলা হয়েছে, ওই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে। তাদের উত্তরপত্র ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী নমনীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে এবার মোট ৯৬২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষায় অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ জন।





