কুলিয়ারচর
পানিতে ডুবে আছে ৯০৫ কোটি টাকা প্রকল্পের স্কুল

ছবি: আগামীর সময়
চারিদিকে থইথই করছে পানি। মাঝখানে দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে আছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে যাতায়াতের জন্য নেই কোনো রাস্তা, নেই কোনো সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল)। ফলে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে কাদা মেখে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে অভিভাবক ও শিক্ষকদের।
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১০–১১ অর্থবছরে গ্রহণ করা হয় 'বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় ১৫০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প'। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯০৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০০টি বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয় ১ হাজার ৪৯৫টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় স্থাপন করা হয় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি বর্তমানে নানা সমস্যায় অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিদ্যালয়বিহীন এলাকায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছিল, কুলিয়ারচরের এই বিদ্যালয়ের বর্তমান চিত্র সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষার পানি বাড়ায় ধুপাখালি গ্রামের এই বিদ্যালয়টির চারপাশ এখন জলমগ্ন। অল্প বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠটি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যায়। স্কুল ভবনের ঠিক নিচ পর্যন্ত পানি থইথই করছে। বিদ্যালয়টির কোনো বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় এবং যাতায়াতের একমাত্র মাটির রাস্তাটি পানিতে ডুবে যাওয়ায় চারপাশ এখন উন্মুক্ত ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। স্কুলে যেতে হচ্ছে পুকুরের পাড় দিয়ে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, স্কুলের চারদিকে এখন গভীর পানি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা কখন পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়, সেই আতঙ্কে থাকি। বাধ্য হয়ে অনেক বাবা-মা সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। দ্রুত এখানে একটি গাইড ওয়াল এবং চলাচলের জন্য স্থায়ী রাস্তা বা ব্রিজের ব্যবস্থা করা দরকার।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, স্কুলটিতে প্রায় ৯৮ জন ছাত্রছাত্রী। রাস্তা ও বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে আসে। চারদিকে পানি থাকায় শিক্ষকরাও সার্বক্ষণিক আতঙ্কে থাকেন যাতে কোনো শিশু দুর্ঘটনার শিকার না হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদুর রহমান জানান, ‘আমি এখানে যোগ দেওয়ার পর একদিন পরিদর্শন করেছি। বিদ্যালয়টির ভৌগোলিক অবস্থান ও সমস্যার কথা আমরা অবগত আছি। বিদ্যালয়টি এমনিতেই তো পানির ওপর আবার নেই রাস্তা বাচ্চাদের জন্য খুব বিপজ্জনক। কিন্তু কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা রাস্তা ও দেওয়ালের কাজ করতে পারছি না।’
তবে প্রকল্পটির আওতায় কুলিয়ারচরে নির্মিত বিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা ও প্রকল্প-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় কুলিয়ারচরে নির্মিত বিদ্যালয়, বরাদ্দ কিংবা পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারসংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যও তারা দিতে পারেননি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান , এলাকায় মধ্যে বহু জায়গা থাকতে কেন এই পানির মধ্যে বাচ্চাদের স্কুল করা হলো এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তৃপক্ষর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।






