গজারিয়ায় ভাসমান নৌকায় আনন্দের পাঠ

খালে ভাসছে ‘শিক্ষাতরী’। ছবি: আগামীর সময়
টলটলে পানিতে নৌকা দুলছে। ওপরে বিছানো পরিচ্ছন্ন শতরঞ্জিতে বসে মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখছে একদল শিশু। কারও চোখে কৌতূহল, কারও মুখে হাসি। কেউ আবার হাতে-কলমে শিখছে নতুন কিছু। শ্রেণিকক্ষের চেনা চার দেয়ালের বাইরে এ যেন আনন্দের পাঠশালা।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদী ও খালঘেরা পরিবেশে শিক্ষার্থীদের জন্য এমনই ব্যতিক্রমী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি। পরিবেশ, ইতিহাস ও ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখাতে চালু করা হয়েছে তিনটি ভাসমান শিক্ষাতরী— ‘পরিবেশ তরী’, ‘ইতিহাস তরী’ ও ‘ডিজিটাল তরী’। এসব তরীতে পাঠ্যবইয়ের বাইরে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীরা।
গজারিয়ার বাউশিয়া আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয় ও পুরান বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছেই বাউশিয়া-টেকপাড়া গ্রামীণ সড়কসংলগ্ন একটি খালে ভাসছে তিনটি শিক্ষাতরী। শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থা, প্রদর্শনীর উপকরণ আর শেখার নানা আয়োজন মিলিয়ে জায়গাটি হয়ে উঠেছে অভিনব পাঠকেন্দ্র।
পরিবেশ শিক্ষাতরীতে কথা হয় পুরান বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবাশ্বিরার সঙ্গে। বন্ধুদের সঙ্গে সে-ও এসেছে শিক্ষাতরীতে। খেলার ছলে নানা বিষয়ে শেখার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত।
ব্র্যাকের মুন্সীগঞ্জ জেলা কো-অর্ডিনেটর মো. মারুফ পারভেজের ভাষায়, সারা দেশে ব্র্যাকের উদ্যোগে ছয়টি শিক্ষাতরীর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি গজারিয়া উপজেলায় এবং অন্য তিনটি পটুয়াখালী জেলায় অবস্থান করছে।
১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে গজারিয়ার বাউশিয়া মোহাম্মদ আব্দুল আজহার উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলী খালে ভাসমান শিক্ষাতরীগুলোর উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। সে সময় উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া, ব্র্যাকের জেলা কো-অর্ডিনেটর মো. মারুফ পারভেজ, ডিজিটাল-ইতিহাস-পরিবেশ, শিক্ষাতরী প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রদীপ কুমার রায়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।



