চত্রার ভাঙনে বিপর্যস্ত দুই সড়ক

চত্রা নদীর ভাঙনে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির দুটি সড়ক বেহাল। ছবি: আগামীর সময়
হাটে যেতে ভোগান্তি। হাসপাতালে যেতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়াও হয়ে পড়ে কঠিন। চত্রা নদীর ভাঙনে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক এখন বেহাল। এরই মধ্যে একটি সড়কের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। অন্য সড়কটিও ভাঙনের মুখে। এতে কার্যত ভেঙে পড়েছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সরেজমিনে চত্রা নদীর উত্তর পাশে বালিয়াকান্দি-নারুয়া-মৃগী সড়কের খাটিয়াগাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে প্রায় ৭০০ ফুট জুড়ে। সড়কের এক পাশের মাটি নদীতে ধসে পড়ায় কোথাও কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে অর্ধেকের বেশি অংশ। সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করছে ভারী যানবাহনও।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে নদীতে চলে যেতে পারে সড়কটির অবশিষ্ট অংশও।
নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরঘিকমলা ও চরটাকাপোড়া এলাকার সড়কটির অবস্থা আরও সংকটজনক। সড়কের মাঝামাঝি বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বন্ধ আছে যান চলাচল। কোথাও কোথাও অবশিষ্ট সড়কের প্রস্থ এতটাই কমে গেছে যে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে মোটরসাইকেল চলাচলও।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বড় ঘিকমলা, ঘিকমলা, চষাবিলা, পূর্ব বাকসাডাঙ্গিসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এসব সড়কের ওপর নির্ভরশীল। তাদের বড় একটি অংশ কৃষিজীবী। প্রতিদিন কৃষিপণ্য নিয়ে হাট-বাজারে যেতে হয়। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক চলাচল।
চরঘিকমলা এলাকার মাজেদ মোল্যা বলেছেন, ‘সড়ক ভেঙে যাওয়ায় হাট-বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’
খাটিয়াগাড়া গ্রামের খায়রুল হোসেন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা যাচ্ছে। মাঝারি আকারের ট্রাক চলাচলের সময় পাশ কাটিয়ে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। দিন দিন মূল সড়কটি সরু হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কের আরও অংশ নদীতে চলে যেতে পারে।
নারুয়া থেকে পাংশাগামী ট্রাকচালক বশির আহমেদ বলেছেন, অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করা হলে একসময় সড়কটি দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন দ্বিগুণ দূরত্বের বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হবে।
নারুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বিভিন্ন সময়ে ধসে যাচ্ছে। এখন ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৭০০ ফুট এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশের অর্ধেক নদীতে চলে গেছে। নারুয়া থেকে পাংশা যাতায়াতের এটিই একমাত্র সড়ক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যে পুরো সড়কটি বিলীন হয়ে যেতে পারে।
রাজবাড়ী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহামুদ হাসান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের ভোগান্তি কমানো এবং যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।







