নতুনের জন্য পুরনোটি ভেঙে কালভার্টহীন পাঁচ গ্রাম

পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ছবি: আগামরি সময়
প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ টাকায় নেওয়া হয় কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ। ভেঙে ফেলা হয় পুরনোটি। তবে দুই বছরেও শুরু হয়নি সেই কাজ। এখন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হন কেউ, অনেকে হেঁটে যান পানি মাড়িয়ে। এই হাল কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের।
দুই বছরেও কালভার্ট নির্মাণ কেন শুরু হয়নি, এর স্পষ্ট জবাব নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে। এখন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীসহ পাঁচ গ্রামের মানুষ পোহাচ্ছে দুর্ভোগ।
স্থানীয় প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, গতিয়াশাম গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে ৪ দশমিক ২৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি কালভার্ট নির্মাণে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ আসে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণের কথা।
প্রকল্পের আওতায় রাজারহাট উপজেলায় ৯টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ এ জন্য ডাকা হয় দরপত্র। পরে ঠিকাদার মো. নূর আলম মিয়ার সঙ্গে ২ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৮ টাকায় চুক্তি হয়।
গতিয়াশামের কালভার্টটির কাজ ২০২৪ সালের ১৪ মে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যায়নি দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। তবে পুরো প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা অর্থছাড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে পুরনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর হঠাৎ কাজ বন্ধ করে চলে যায় তারা। যোগাযোগের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা তৈরি করে নেয় বাঁশের সাঁকো।
স্থানীয় আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘এটি আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ। আমরা কৃষক মানুষ। আমাদের জমি রাস্তার ওপারে। জমির কাজ করতে ওপারে যেতে হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম, তবুও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন এই পথ দিয়ে মুসরুত নাকেন্দা নেসামিয়া মডেল মাদ্রাসা, গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী চলাচল করে। পাশাপাশি পাঁচ গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষও এ পথ ব্যবহার করেন। কালভার্ট না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’
‘অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করে দেয়নি। পরে গ্রামবাসী নিজেরাই বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন,‘ যোগ করেন তিনি।
ঠিকাদার মো. নূর আলমের দাবি, এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যা, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কাজটি বিলম্বিত হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঠিকাদার একসঙ্গে অনেক কাজ পাওয়ায় এ কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তার জানা আছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





