বরাদ্দের তিন বছরেও হয়নি কালভার্ট, পুরনোটি ভেঙে দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ

ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো পার হন হাজারো মানুষ। ছবি: আগামরি সময়
তিন বছর আগে শুরু হয়েছিল কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ। বরাদ্দও হয়েছিল প্রায় ১৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। কিন্তু আজও শুরু হয়নি সেই কালভার্টের কাজ। পুরনো কালভার্ট ভেঙে ফেলায় পাঁচ গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষ এখন দুর্ভোগে। ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধরা। অথচ কাজ শেষ হয়েছে প্রকল্পের অন্য ৮টি কালভার্টের।
তিন অর্থবছর পেরিয়ে গেলেও এই একটি কালভার্ট কেন পড়ে আছে, তারও স্পষ্ট জবাব নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।
ঘটনাটি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামের। কালভার্টটি নির্মিত হলে গতিয়াশাম গ্রামের সঙ্গে আশপাশের আরও চারটি গ্রামের যোগাযোগ সহজ হতো। এখন কালভার্ট না থাকায় তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীসহ পাঁচ গ্রামের মানুষকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।
তথ্য অনুযায়ী, গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১০০ মিটার দক্ষিণে ৪ দশমিক ২৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মাণের কথা।
প্রকল্পের আওতায় রাজারহাট উপজেলায় মোট ৯টি সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ এ জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ঠিকাদার মো. নূর আলম মিয়ার সঙ্গে ২ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৮ টাকায় চুক্তি হয়। প্রকল্পটির টেন্ডার আইডি ৯৬৫৭৬৪।
গতিয়াশামের কালভার্টটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ১৪ মে। কিন্তু ৮২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে পুরো প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ১০০ টাকা অর্থছাড় হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে পুরনো কালভার্টটি ভেঙে ফেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর হঠাৎ কাজ বন্ধ করে চলে যায় তারা। ফলে যোগাযোগের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘এটি আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ। আমরা কৃষক মানুষ। আমাদের জমি রাস্তার ওপারে। জমির কাজ করতে ওপারে যেতে হয়। মেম্বার-চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম, তবুও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রতিদিন এই পথ দিয়ে মুসরুত নাকেন্দা নেসামিয়া মডেল মাদ্রাসা, গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী চলাচল করে। পাশাপাশি পাঁচ গ্রামের প্রায় ৬ হাজার মানুষও এ পথ ব্যবহার করেন। কালভার্ট না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’
‘অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করে দেয়নি। পরে গ্রামবাসী নিজেরাই বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন,‘ যোগ করেন তিনি।
ঠিকাদার মো. নূর আলমের দাবি, এলাকায় বিদ্যুৎ সমস্যা, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কাজটি বিলম্বিত হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঠিকাদার একসঙ্গে অনেক কাজ পাওয়ায় এ কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তার জানা আছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








