রাজশাহীতে ‘ম্যাংগো লাভার’ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
রাজশাহীর পবা উপজেলার অনলাইনভিত্তিক আম বিক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাংগো লাভারের’ কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই কর্মী।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অফিস থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পুষ্টিবিদ মুরাদ পারভেজ। তিনি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) খাদ্য প্রযুক্তি ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রক্তান শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, এ হামলা চালিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর পারভেজ ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে।
তার ভাষ্য, হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। পাশাপাশি ১৫ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ এবং অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক কাউন্সিলর পারভেজ। তিনি জানিয়েছেন, মুরাদের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় বা বিরোধ নেই। আশিক নামে একজন ম্যাংগো লাভারে কাজ করেন। টাকা-পয়সা নিয়ে আশিক ও তার ভাই রাসেলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এখন সম্মানহানির জন্য তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে।
তার দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই, সেটি স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই ভাই আশিক ও রাসেলের দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। আশিক প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত থাকায় মালিক মুরাদ পারভেজের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পাওনা টাকা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জেরে পরে ‘ম্যাংগো লাভারের’ কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
অভিযোগ রয়েছে, একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে অফিসে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় দায়িত্বে থাকা দুই কর্মী সাকিব ও তামিম অফিসের সম্পদ রক্ষার চেষ্টা করলে তাদেরও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে পবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পক্ষ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করে বের করার কাজ চলছে।
এদিকে এ হামলার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।





