কক্সবাজারে খুনের জেরে খুন, পাল্টাপাল্টি হত্যা মামলা

হোটেল রেনেসাঁ
কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার হোটেল রেনেসাঁর বারে সংঘর্ষের ঘটনায় হত্যার শিকার হন নাজিবুল হক রাশেদ। এ হত্যাকাণ্ডে সোলাইমান প্রকাশ সালমান জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে মারধর করে রাশেদের স্বজনরা। পরে চিকিৎসাধীন মারা যান সোলাইমান প্রকাশ। এ ঘটনায় সোলাইমানের মা বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় রাশেদের দুই ভাইসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে নিহত সালমানের মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় রাশেদের ভাই শহীদুল হক নয়নকে ১ নম্বর আরেক ভাই কায়সার আবেদীনকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন নেজাম উদ্দিন, রাসেল সরোয়ার, জিয়াউল হক জিয়া, নঈম উদ্দিন, টিপু সোলতান ও সাজ্জাদুল ইসলাম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে হোটেল রেনেসাঁর বারে মদ পান করার সময় রাশেদ ও আনসার নামে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে আনসার তার বন্ধু তাজওয়ার হক রাধি ও সোলাইমান প্রকাশ সালমানকে সেখানে ডাকেন। একপর্যায়ে তাজওয়ার হক রাধি রাশেদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। গুরুতর আহত রাশেদকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রাশেদ শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা। রাশেদকে ছুরিকাঘাতে সালমান জড়িত বলে অভিযোগ করে তার স্বজনরা। এরপর সালমানকে মারধর করেন। অভিযোগ, একপর্যায়ে সালমানকে মারতে মারতে নতুন বাহারছড়া এবং পরে ফিশারিঘাট এলাকার একটি বরফকলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারধরের পর তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সালমানের মৃত্যু হয়।
নিহত সালমান কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার চৌধুরীপাড়ার মৃত আবুল কালাম সিকদারের ছেলে।
অন্যদিকে রাশেদ হত্যার ঘটনায় তার ভাই কায়সার আবেদীন বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পৃথক হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার আবু তাহের মিয়ার ছেলে তাজওয়ার হক রাধি, মধ্যম বাহারছড়ার তাজর মুল্লুক সড়কের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে বাবুল প্রকাশ বাবু, উত্তর নুনিয়ারছড়ার ছিদ্দিক মাঝির ছেলে মো. আনছার, পাহাড়তলীর ইছুলোর ঘোনার আব্দুল হাকিম মাঝির ছেলে আরিফুল ইসলাম, বিজিবি ক্যাম্প এলাকার নুরুল হুদার ছেলে মোস্তফা হাসান রাফি এবং ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়ার মাস্টারপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে মো. খোকন।
এই মামলার ৫ নম্বর আসামি মোস্তফা হাসান রাধিকে শুক্রবার রাত ৩টার দিকে বিজিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। শনিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদ হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি সালমান হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান জানিয়েছিলেন, রেনেসাঁ হোটেলের বারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হোটেলটির বার বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, রেনেসাঁ হোটেলের বারে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের কাছে মদ বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। বারটির অনুমোদন ও পরিচালনাসংক্রান্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।








