ভুয়া ভাউচারে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিএমডিএর কর্মী বরখাস্ত

মোতাহার হোসেন। সংগৃহীত ছবি
সেচযন্ত্রের প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ না করে ভুয়া স্লিপ ও ভাউচার জমা দিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী মেকানিকের বিরুদ্ধে। রাজশাহীর পবা জোনে কর্মরত মোতাহার হোসেন নামের ওই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাকে পঞ্চগড় জোনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খানের সই করা এক অফিস আদেশে এই সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়। গতকাল শুক্রবার নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিকাশ, রকেট ও জনতা ব্যাংকের ডিলার পয়েন্টের পেমেন্ট স্লিপ ও ভাউচার জমা দিয়ে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।
বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পবা জোনের আওতাধীন নওহাটা পৌরসভার সিন্দুরঝুসুম্বী মৌজার একটি গভীর নলকূপের প্রিপেইড মিটার নষ্ট হওয়ার পর সেটির লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে দেখা যায়, মিটারটির তথ্য সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো চেকিং কার্ড ব্যবহার করা হয়নি। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের বেশি সময় মিটারটির তথ্য সংগ্রহে কোনো চেকিং কার্ড ব্যবহার করা হয়নি।
এরপর গত ২০ জুলাই মোতাহার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। গত ২৬ জুলাই তিনি জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক হয়নি। পরদিন তার নামে বরাদ্দ করা সেচযন্ত্রের বরাদ্দ আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে তার বরাদ্দ করা গভীর নলকূপগুলোর প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন মোতাহার। এ বিষয়ে ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ ছিল।
এসব কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণ, পলায়ন, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পঞ্চগড় জোন অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান এবং পৃথক হাজিরা খাতায় সই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মস্থল ত্যাগের আগেও তাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
এ বিষয়ে মোতাহারের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিএমডিএর পবা জোনের সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, মোতাহার অফিস থেকে টাকা নিয়ে সেচযন্ত্রের বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতেন। কিন্তু দুই অর্থবছরে প্রায় ২৪ লাখ টাকা রিচার্জ না করেই ভুয়া ভাউচার ও পেমেন্ট স্লিপ জমা দেওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেছেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




