চুরি যাওয়া ল্যাপটপের খোঁজে রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক

জার্মান পর্যটক ও বাংলাদেশ পুলিশ
চুরি যাওয়া ল্যাপটপের সংকেত তাকে নিয়ে এসেছে রাজশাহীতে। সঙ্গে চলছে পুলিশের একাধিক ইউনিটের তৎপরতা। নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি যাওয়া নিজের ম্যাকবুক (ল্যাপটপ) ও ডিএসএলআর ক্যামেরা উদ্ধারের আশায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজশাহীতে অবস্থান করছেন জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার। কয়েক দফা ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হলেও এখনো নিশ্চিতভাবে সেটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় জার্মান তরুণ ক্রিল ল্যান্ডার বলেছেন, ‘কাজটি কঠিন। তবে আমার মনে হচ্ছে, আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’
ঘটনার শুরু নাটোর রেলস্টেশনে। বুধবার বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন তিনি। ভুল করে নাটোরে নেমে পড়েন। সেখানে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই যুবক নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।
ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য টাকা তুলতে এটিএম বুথে যাচ্ছিলেন ক্রিল। নিজের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র ওই যুবকের কাছে রেখে যান। কয়েক মিনিট পর টাকা তুলে ফিরে এসে দেখেন, যুবকটি নেই। নেই তার ব্যাগও।
ব্যাগে ছিল ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরা। পরে জানতে পারেন, যিনি নিজেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনি আসলে রেলের কেউ নন।
ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় যান ক্রিল। বিষয়টি জানান পুলিশকে। করেন সাধারণ ডায়েরি (জিডি)। এরপর শুরু হয় ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা।
ল্যাপটপের সংকেত প্রথমে পাওয়া যায় রাজশাহীর রেলগেট এলাকায়। পরে বুধবার রাত ১১টার দিকে রাজশাহীতে আসেন ক্রিল ল্যান্ডার। তখন সংকেত পাওয়া যায় মহিলা কলেজের আশপাশে।
এরপর ওই এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বোয়ালিয়া থানা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাবের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেস মালিক ও কেয়ারটেকারদেরও বিষয়টি জানানো হয়।
তবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ল্যাপটপের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। এতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রাতেও অবস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। ল্যাপটপটি যাতে হাতবদল বা বিক্রি হয়ে না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক ছিল পুলিশ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আবার সংকেত পাওয়া যায়। এবার সেটি আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা ছিল। দ্রুত তল্লাশি চালানো হয় ট্রেন দুটিতে। কিন্তু পাওয়া যায়নি ল্যাপটপ বা ক্যামেরা।
বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন কিরিল ল্যান্ডার। আগের রাতে তার থাকার ব্যবস্থা করা হয় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে। খাবারের ব্যবস্থাও করছে পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘নাটোর রেলস্টেশনে ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় জিডি করেন ওই পর্যটক। এরপর নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টাও চালানো হয়। এখনো আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সঠিক লোকেশন পাওয়া গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’
তিনি বললেন, ‘বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তার জিনিসপত্র যাতে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, আরএমপি, ডিবি, র্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে। ছবিটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামালের নিশ্চিত অবস্থান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কিছুটা হতাশ ক্রিল ল্যান্ডারও। তিনি বলেছেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আমরা আমার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাব।’
ক্রিল জানালেন, তার পাসপোর্ট ও মুঠোফোন তার কাছেই আছে। ল্যাপটপে কোনো পাসপোর্ট ছিল না। তবে এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। জানালেন, বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার মধ্যেও পুলিশের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
তিনি আরো বললেন, ‘আমি জানি, পুলিশ কর্মকর্তারাও আমার জিনিসপত্র উদ্ধার করার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।’



