নারায়ণগঞ্জে লোকালয়ে ঘোরাঘুরি করছে কুমির, আতঙ্ক

সংগৃহীত ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দর ইউনিয়নের তিনগাঁও এলাকায় একটি কুমিরের উপস্থিতিতে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে কুমিরটির ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পুকুরে না নামাসহ কুমিরটির কাছাকাছি না যেতে স্থানীয়দের সতর্ক করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুমিরটি প্রথমে যে পুকুরে দেখা গিয়েছিল সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করে পাশের আরেকটি পুকুরে চলে গেছে। ওই এলাকায় কুমির থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতকর্তা জারি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্দর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভেটেরিনারি সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করছে। বিষয়টি বন বিভাগ ও ঢাকা থেকে আসা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলকেও জানানো হয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল দিনভর কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে রাতে কুমিরটি আগের অবস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্য একটি স্থানে চলে গেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আবারও কুমিরটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরটিকে ‘মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি কুমিরটিকে হত্যা বা আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, রবিবার সারাদিন বন বিভাগের পক্ষ থেকে কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতে ঢাকায় ফেরার পর তারা জানতে পারেন, কুমিরটি ওই পুকুর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্যত্র চলে গেছে।
তিনি কুমিরটিকে মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে বন্যপ্রাণীর আচরণ অনিশ্চিত হওয়ায় প্রশাসন ও বন বিভাগ স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনোভাবেই পুকুরে না নামতে এবং পুকুরপাড়ে না যেতে বলা হয়েছে। কুমির দেখতে পেলে কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও করা, নিজে ধরার বা তাড়ানোর চেষ্টা এবং আঘাত করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুরের আশপাশ থেকে দূরে রাখা এবং কুমির দেখতে ভিড় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল আবেদীন অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে প্রশাসন।
গত শনিবার রাতে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা প্রথমে কুমিরটি দেখতে পান। পরে গতকাল রবিবার বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিরের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুমিরটি প্রথমে একটি পুকুরে দেখা গেলেও পরে পাশের আরেকটি পুকুরে চলে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য। রবিবার দিনভর ঢাকার বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দল পুকুরে জাল ফেলে কুমিরটি ধরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। সোমবার বিকেল পর্যন্ত কুমিরটি উদ্ধারে নজরদারি বাড়ালেও এটিকে দেখা যায়নি।




