তীব্র গরমে গজারিয়ায় বেড়েছে তালের শাঁসের কদর

ছবি: আগামীর সময়
দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তির বার্তা হয়ে উঠেছে কচি তালের শাঁস। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও সড়কের পাশে বর্তমানে তালের শাঁসের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রচণ্ড গরমে ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে মানুষ কোমল পানীয়ের পরিবর্তে এই প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর ফলের দিকে ঝুঁকছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হাসপাতাল রোড, ভবেরচর ও জামালদী বাসস্ট্যান্ড, কলেজ রোড, এসডি খান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানগাড়িতে করে তালের শাঁস বিক্রি করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদেরও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
স্থানীয়রা জানান, ভ্যাপসা গরম শুরু হওয়ার পর শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী মানুষই তালের শাঁসে প্রশান্তি খুঁজছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার তালের শাঁসের চাহিদা অনেক বেশি। চাহিদা বাড়ায় গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে মানুষ ফরমালিনমুক্ত এ মৌসুমি ফল খেয়ে গরমে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন।
ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা আনোয়ার মিয়া জানিয়েছেন, হাটের দিন বিক্রি বেশি হয়। তিনি ও তার বাবা রসুলপুর হাটে তালের শাঁস বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার ব্যবসা হয়।
রসুলপুর বাজারের ক্রেতা ও মানবাধিকারকর্মী এস এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের জন্য তিনি ২০টি তালের শাঁস কিনেছেন। গরমের দিনে এটি শরীরকে দ্রুত সতেজ করে।
ক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার তালের শাঁসের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবু সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় এর চাহিদা কমেনি। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কাছে এর কদর বেশি।
ভবেরচর বাসস্ট্যান্ডের বিক্রেতা আবুল হোসেনের ভাষ্য, গ্রামের তালগাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। প্রতি পিস তাল ৮ থেকে ১০ টাকায় কিনে ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করেন। এতে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিক্রি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তালের শাঁসে ভিটামিন এ, বি ও সি ছাড়াও জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিন বলেছেন, এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে তালগাছ চাষ করা হয় না। সাধারণত বসতবাড়ি ও রাস্তার পাশে তালগাছ লাগানো হয়। লম্বা হওয়ার কারণে তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জ্যেষ্ঠ মেডিকেল কর্মকর্তা খন্দকার আরশাদ কবির বলেছেন, তালের শাঁস গরমের দিনে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ ও বি-কমপ্লেক্স শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়।
তিনি জানান, তালের শাঁস রক্তস্বল্পতা কমাতে, দৃষ্টিশক্তি ও রুচি বৃদ্ধিতে সহায়ক। আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমেও উপকারী। তবে অপরিষ্কার পরিবেশে সংরক্ষণ বা খেলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।




