৪০ হাজার টাকায় শিশুকন্যাকে বিক্রি, অবশেষে ফিরল মায়ের কোলে

মায়ের কোলে শিশু আদিবা। ছবি: আগামীর সময়
এখনো ঠিকমতো হাঁটতে শেখেনি। মুখে ফোটেনি স্পষ্ট বুলি। বয়স মাত্র ১৪ মাস। অথচ সেই ছোট্ট আদিবা খাতুনকে ঘিরেই উঠেছে হৃদয়বিদারক এক অভিযোগ। নিজের বাবাই নাকি তাকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে শিশুটি। ফিরেছে আপনজনের কাছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) গভীর রাতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ২ নম্বর নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব খামার দশলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে সেখান থেকে আদিবাকে উদ্ধার করা হয়।
আদিবা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরিতাবাড়ী গ্রামের মো. আজাহার ও খালেদা বেগমের মেয়ে। পুলিশ জানায়, প্রায় সাত মাস আগে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে মায়ের কাছেই বড় হচ্ছিল সে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে কিছুদিন আগে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ নেন তার মা। ছোট্ট মেয়েটিকে রেখে যান নিজের ছোট বোন খাদিজার কাছে। আশা ছিল, খালার আদর-যত্নেই ভালো থাকবে আদিবা।
খালার বাড়িতে থাকাকালে আদিবার বাবা একাধিকবার মেয়েকে দেখতে যেতেন। কখনো কখনো নিজের বাড়িতেও নিয়ে আসতেন। কিন্তু গত ১ অক্টোবর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরত দেননি। অভিযোগ, সেদিনই তিনি আদিবাকে রুহুল আমিনের কাছে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
মেয়েকে ফেরত না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন আদিবার মা ও পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তারা সাদুল্লাপুর থানায় খবর দেন। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। গভীর রাতে রুহুল আমিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় আদিবাকে।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
যে বয়সে মায়ের কোলে নিরাপদে থাকার কথা, যে বয়সে পৃথিবীকে চেনার কথা পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসায়, সেই বয়সেই আদিবাকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিজের বাবার বিরুদ্ধে। অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। আপাতত স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ছোট্ট আদিবার জীবনে স্বস্তির একটি মুহূর্ত ফিরেছে।




