সময় ফুরোয়, শেষ হয় না সেতু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শিবসা নদীর ওপর ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রয়েছে ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ এক সেতু। যে সেতু চালু হলে পাইকগাছার পাশাপাশি কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও তেরখাদার মানুষের খুলনা শহরে যাতায়াত সহজ হবে। উপকৃত হবেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মানুষও। এ কারণে অধীর আগ্রহে দিন গুণছেন তারা।
তবে মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা শেষ হয়েছে মাত্র ৭৬ শতাংশ। ইতিমধ্যে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করা।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কড়ুলিয়া এলাকায় পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনজে এ সেতুটির অবস্থান। পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের কড়ুলিয়া গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রশস্ত। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এর নির্মাণকাজ শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী শাহিন গোলদার জানান, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে খুলনায় যেতে তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং শিববাটী সেতু হয়ে ঘুরে যাওয়ার কারণে সময় ও খরচ দুটিই বাড়ে। নতুন সেতুটি চালু হলে এই দুর্ভোগ কমবে।
ব্যবসায়ী সোলাইমান গাজীর ভাষ্য, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ বিভিন্ন কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।
তবে সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে স্থানীয়দের কিছু অভিযোগও রয়েছে। লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।’
সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়েও স্থানীয়দের একাংশের আপত্তি রয়েছে। তাদের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের বাসিন্দারা সেতুটির প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
স্থানীয় কয়েকজনের আশঙ্কা, পাইকগাছায় এটি চতুর্থ সেতু হওয়ায় শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমতে পারে। এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সব কটির কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সাহেব আলী বলেন, ‘সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের মাধ্যমে যানবাহন চলাচল সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পাইকগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ করবে সেতুটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক সংস্কার এবং স্থানীয়দের আপত্তির বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তাদের মতে, শুধু সেতুর নির্মাণ শেষ হলেই প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক থাকলেই নতুন যোগাযোগব্যবস্থা মানুষের কাজে আসবে।




